স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন কিন্তু স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও পাননি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। কেন এখনও মুক্তিযোদ্ধার তালিকার বাইরে রয়েছেন মানিকগঞ্জের আব্দুস ছালাম (সামাদ)? এটি কি প্রশাসনিক জটিলতা, নাকি দীর্ঘদিনের অবহেলার ফল?
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বাসিন্দা আব্দুস ছালাম (সামাদ) অভিযোগ করেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করলেও স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি। স্থানীয় সচেতন মহলেরও দাবি, বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন, সংযোজন, বিয়োজন ও যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও প্রতিবারই তাঁর নাম তালিকার বাইরে থেকে গেছে।
জানা গেছে, সাটুরিয়া উপজেলার দিঘলীয়া ইউনিয়নের চাচিতারা গ্রামের জৈনুদ্দিনের ছেলে আব্দুস ছালাম (সামাদ) ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে ভারতের মেঘালয়ের তুরা এলাকায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তাঁর দাবি, প্রশিক্ষণ শেষে দেশের স্বাধীনতার জন্য সম্মুখসমরে অংশ নেন তিনি কিন্তু স্বাধীনতার পর স্থানীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা এবং বিভিন্ন সময়ের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার কারণে তিনি সরকারি স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
আব্দুস ছালাম বলেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করতে পারা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব। তবে স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে নানা ধরনের বৈষম্য ও দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তাঁর মতে, মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি না পাওয়াই সেই বঞ্চনার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। এ পরিস্থিতির জন্য তিনি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতাকেই দায়ী করেন।
তিনি আরও বলেন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই করা হলে তিনি অবশ্যই স্বীকৃতি পাবেন বলে বিশ্বাস করেন। সেই আশাতেই তিনি এখনও অপেক্ষা করে আছেন।
এ বিষয়ে দিঘলীয়া ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের মাস্টার বলেন, আব্দুস ছালাম (সামাদ) তাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আজও তিনি সরকারি স্বীকৃতি পাননি। একজন সহযোদ্ধা হিসেবে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
সব মিলিয়ে, স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর আব্দুস ছালামের এই অভিযোগ নতুন করে সামনে এনেছে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির প্রশ্ন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পুনঃযাচাই করা প্রয়োজন। তাঁদের প্রত্যাশা, যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যেন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেন।

