জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অন্যতম আসামি চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এদিন মামলায় অভিযুক্ত ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন গ্রেপ্তার আসামিদের আদালতে উপস্থিত রাখা বাধ্যতামূলক। সেই নিয়ম অনুসারে এ মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
প্রসিকিউশন আরও জানায়, চার আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হলেও ফজলে করিম চৌধুরী অসুস্থ থাকায় তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ কারণে তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এ মামলায় গ্রেপ্তার অন্য চার আসামি হলেন যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ এবং দেবাশীষ পাল দেবু।
অন্যদিকে মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচ এম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ এবং সুমন দে।
এর আগে, গত ৫ এপ্রিল প্রসিকিউশন মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরে ৭ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল-২ তিনটি অভিযোগে মোট ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণ করেন।
মামলার প্রথম অভিযোগে ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার দায় আনা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম এবং হৃদয় চন্দ্রকে হত্যা করার অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তৃতীয় অভিযোগে জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা, আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে গুরুতর আহত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

