রাজধানীতে প্রস্তাবিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, খসড়া আইনটি পাস হলে কমিশনের স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা সীমিত হয়ে যেতে পারে।
আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় এ উদ্বেগ তুলে ধরা হয়। সভার আয়োজন করে মানবাধিকার ফোরাম বাংলাদেশ ও টিআইবি। সেখানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, খসড়া আইনে এমন কিছু বিধান রয়েছে, যা কার্যকর হলে কমিশনের স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে গুম সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা পূর্ববর্তী অধ্যাদেশে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, নতুন খসড়ায় তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, খসড়ার ১৩ নম্বর ধারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও নজরদারি সংস্থার সম্ভাব্য গোপন আটককেন্দ্র বা ‘আয়না ঘর’-এর মতো স্থাপনা পরিদর্শনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এতে গোপন বা অবৈধ আটক সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্তে কমিশনের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
এ ছাড়া খসড়ার ২০ নম্বর ধারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত করার বিষয়েও আপত্তি জানায় টিআইবি।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বর্তমান খসড়া অনুযায়ী আইনটি পাস হলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী একটি স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গঠন করা সম্ভব হবে না।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত শতাধিক অধ্যাদেশের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি সংসদে পাস হয়নি। পরে নতুন করে আইনটির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। তবে টিআইবির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আগের প্রস্তাবিত অনেক ক্ষমতাই নতুন খসড়ায় সীমিত করা হয়েছে।
টিআইবি আরও সুপারিশ করেছে, সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পূর্বানুমতির বিধান পুনর্বহাল না করা উচিত। পাশাপাশি কমিশনের বাজেট ব্যবস্থাপনা, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণমূলক ধারাগুলো সংশোধনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া মানবাধিকার কমিশনের কার্যক্রম উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তারের সুপারিশও করেছে সংস্থাটি।

