দেশে হামের প্রাদুর্ভাব কমার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে প্রায় এক হাজার শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হওয়ায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, দ্রুত রোগ শনাক্ত এবং আক্রান্ত শিশুদের সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রকাশিত নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। সবশেষ মৃত্যুর ঘটনায় তিনজন শিশু ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। বাকি দুজনের মধ্যে একজন সিলেট এবং অন্যজন বরিশাল বিভাগের।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৬৩১ শিশু। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ জন। ফলে এ পর্যন্ত হামে ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২৪ জনে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৯৬৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৯৯৩ জনে।
এ ছাড়া গত এক দিনে পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ১৫৪ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে দেশে মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ২৮৬ জন।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৬ হাজার ৪১১ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮২ হাজার ৭৫৯ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে খুব সহজেই অন্যদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব শিশু নির্ধারিত সময়ে হাম প্রতিরোধী টিকা পায়নি বা অপুষ্টিতে ভুগছে, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, হামের কারণে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি, চোখের জটিলতা এবং মস্তিষ্কে সংক্রমণের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ, কাশি, সর্দি কিংবা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাম প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখা, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, টিকাদানের আওতা আরও বাড়ানো, প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। তাই সরকার, স্বাস্থ্যকর্মী এবং অভিভাবকদের সমন্বিত উদ্যোগই বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

