সারা দেশে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) একযোগে শুরু হয়েছে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট ও সমমান পরীক্ষা। বহুদিনের প্রস্তুতি শেষে লাখো শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে বসলেও প্রথম দিনেই সামনে এসেছে একটি উদ্বেগজনক চিত্র। আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি। পাশাপাশি অসদুপায়ের দায়ে ৭ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রথম দিনের পরীক্ষা শুরু হয় সকাল ১০টায় এবং দুপুর ১টায় শেষ হয়। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে এবারের পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হলেও অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ছিলেন ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন। অর্থাৎ ১৭ হাজার ২৩৩ জন পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে উপস্থিত হননি। মোট পরীক্ষার্থীর হিসাবে অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ০১ শতাংশ।
বোর্ডভিত্তিক হিসাবেও অনুপস্থিতির সংখ্যা কম নয়। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১ জন, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৬৭ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ১ হাজার ৭৯৫ জন, যশোর বোর্ডে ২ হাজার ৭৮ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ হাজার ৩৪০ জন, সিলেট বোর্ডে ১ হাজার ১২৭ জন, বরিশাল বোর্ডে ১ হাজার ৩৪৬ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ হাজার ৯৩৭ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ হাজার ১৮২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেননি।
শুধু অনুপস্থিতিই নয়, পরীক্ষার শৃঙ্খলা রক্ষায়ও কঠোর অবস্থান দেখা গেছে। অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ৫ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা বোর্ডে ১ জন, যশোর বোর্ডে ২ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ জন এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ১ জন রয়েছেন। তবে প্রথম দিনের পরীক্ষায় কোনো পরিদর্শকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডেও একই চিত্র দেখা গেছে। কুরআন মাজিদ বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন পরীক্ষার্থী। সেখানে ৪ হাজার ৪৭৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন এবং অসদুপায়ের দায়ে ১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন শিক্ষার্থী। এ বোর্ডে অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন। এছাড়া নিয়ম ভঙ্গের দায়ে ১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে তিনটি ধারার শিক্ষা বোর্ডে অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, প্রতি বছর কিছু সংখ্যক পরীক্ষার্থীর অনুপস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এত বড় সংখ্যায় অনুপস্থিতি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। অসুস্থতা, পারিবারিক সমস্যা, আর্থিক সংকট, মানসিক চাপ কিংবা পরীক্ষাভীতি—বিভিন্ন কারণে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন না। এসব কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে অনুপস্থিতির হার কমানো সম্ভব হতে পারে।
অন্যদিকে অসদুপায়ের ঘটনায় বহিষ্কারের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি পরীক্ষা কেন্দ্রে নজরদারি বৃদ্ধি, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতির কারণে পরীক্ষার পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
আন্ত শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দেশের বাইরে স্থাপিত ৮টি কেন্দ্রেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রথম দিনের সার্বিক চিত্রে বোঝা যাচ্ছে, পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর বড় সংখ্যা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। আগামী পরীক্ষাগুলোতেও একই ধারা অব্যাহত থাকে কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে শিক্ষা প্রশাসনের।

