ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক, ভোলা-বরিশাল সেতু, দক্ষিণাঞ্চলে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ এবং বরিশালে রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্রায় দুই বছর ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছেন বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার মানুষ। তবে সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে এসব প্রকল্পের জন্য নতুন কোনো বরাদ্দ কিংবা বাস্তবায়নের স্পষ্ট ঘোষণা না আসায় স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা আরও বেড়েছে।
যদিও ইপিজেড প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্তের তথ্য সামনে এসেছে, তবু বাকি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
এই দাবিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা গত দুই বছরে একাধিকবার মানববন্ধন, গণসমাবেশ, স্মারকলিপি প্রদান ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে অনুমোদিত বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বেশির ভাগই দেশের অন্যান্য অঞ্চলে গেছে। সেখানে বরিশাল বিভাগের প্রাপ্তি তুলনামূলকভাবে খুবই সীমিত। তাদের অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেমন দক্ষিণাঞ্চলের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো নতুন মেগা প্রকল্প নেওয়া হয়নি, বর্তমান সময়েও সেই অবস্থার তেমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।
আন্দোলনকারীদের ভাষ্য, বহুদিন ধরে আলোচিত ভোলা-বরিশাল সেতু এবং ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণের দাবিতে এখনো বাস্তব অগ্রগতি নেই। পায়রা বন্দর থাকার পরও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত বিনিয়োগ থেকে বরিশাল বঞ্চিত রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
নগর চিন্তাবিদদের মতে, জাতীয় বাজেটের মাত্র ০.৮৬ শতাংশ বরাদ্দ বরিশাল বিভাগে যাওয়ায় শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারছে না। এর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বৈষম্য আরও প্রকট হয়েছে।
নগরীর বাসিন্দা মো. জাকির হোসেন বলেন, ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় লেন মহাসড়ক নির্মাণ কোনো বিলাসিতা নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার। তাদের দাবি, তারা ভিক্ষা নয়, প্রাপ্য উন্নয়ন চান।
গোলাম রাব্বানী বলেন, পদ্মা সেতু চালুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ক এখনো সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। একই সঙ্গে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ এবং ইপিজেড প্রতিষ্ঠা হলে শিল্পায়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন বলেন, চারটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে। কিন্তু এবারের বাজেটে এসব প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকায় ব্যবসায়ী সমাজ হতাশ।
কৃষি, মৎস্য, পর্যটন, নৌপরিবহন ও সমুদ্র অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও বরিশাল এখনো অবকাঠামোগত বিনিয়োগে পিছিয়ে রয়েছে। তাই আগামী সংশোধিত বাজেট কিংবা নতুন উন্নয়ন কর্মসূচিতে চারটি প্রকল্পের জন্য পৃথক বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি দ্রুত বাস্তবায়নের রোডম্যাপ ঘোষণা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

