দেশে হামের সংক্রমণ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৪৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সোমবার (৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৪৮ জনে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে উপসর্গ ও পরীক্ষায় নিশ্চিত—দুই ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা মিলিয়ে মোট প্রাণহানি বেড়ে হয়েছে ৭৪১ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৯৪৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৫৬৫ জনে।
এদিকে একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে নতুন করে ১৫৯ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে দেশে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামের মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৭৯১ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলমান প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত ৮৯ হাজার ৭৩৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। তাদের মধ্যে ৮৬ হাজার ৬২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে একজন ঢাকা বিভাগের, একজন রাজশাহী বিভাগের এবং একজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসার আওতায় আনা এবং শিশুদের পুষ্টি ও পরিচর্যায় বিশেষ গুরুত্ব দিলে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তারা অভিভাবকদের শিশুদের নির্ধারিত টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র্যাশ বা অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

