দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯০২টি শিশুর মধ্যে হাম বা হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বুধবার বিকেলে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৫২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। সব মিলিয়ে এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৪৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০৬টি শিশুর হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭৯৬ শিশুর তথ্য নিবন্ধিত হয়েছে। অর্থাৎ একদিনেই মোট ৯০২টি নতুন আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন রোগীর তথ্য যুক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, একই সময়ে ৭৪৮ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে ৭৮৪ শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
সামগ্রিক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ১৮০ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় ১৩ হাজার ৭০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।
এ সময়ে মোট ৯১ হাজার ২৭০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাদের মধ্যে ৮৭ হাজার ৬২৮ জন ইতোমধ্যে হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিভাবকদের শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে র্যাশ বা হামের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

