সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর অব্যবহৃত প্রায় ৭৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দিয়ে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সালথা উপজেলায় খাল পুনঃখননের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকল্পটি নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়ার পর বরাদ্দের একটি অংশ অব্যবহৃত থেকে যায়। সেই অর্থ সরকারি বিধি অনুসরণ করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পুরো সময় ব্যয় ব্যবস্থাপনা, কাজের মান এবং সরকারি নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কোনো অর্থ ব্যয় না করে নির্ধারিত কাজ সম্পন্ন হওয়ায় অবশিষ্ট অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দের অর্থ সাশ্রয় করে তা কোষাগারে ফেরত দেওয়ার ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। ফলে সালথা উপজেলার এই উদ্যোগ সরকারি অর্থ ব্যবহারে স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং জবাবদিহির একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
খাল পুনঃখনন কর্মসূচি দেশের বিভিন্ন এলাকায় পানি নিষ্কাশন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যদিও দেশের বিভিন্ন স্থানে এ কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা ও প্রশ্ন উঠেছে, সালথায় প্রকল্পটি নিয়ম মেনে এবং কার্যকর তদারকির মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় এটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় না করে অব্যবহৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার সংস্কৃতি জোরদার হলে সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং জনগণের আস্থাও আরও বাড়বে।

