টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় কক্সবাজারের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যা ও পাহাড়ধসের পৃথক ঘটনায় জেলায় এখন পর্যন্ত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার রাত থেকে আবারও শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে বন্যার পানি নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে। এতে দুর্গত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে।
সর্বশেষ ঘটনায় কক্সবাজার সদরে পাহাড়ধসে রোজিনা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূ এবং পেকুয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে ১৯ মাস বয়সী শিশু মুশফিকুর রহিমের মৃত্যু হয়েছে। এ দুজনের মৃত্যুর পর চলমান দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে। নিহতদের মধ্যে ১৭ জন রোহিঙ্গা বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় ত্রাণ সহায়তা এখনও পর্যাপ্ত নয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে কক্সবাজারসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আরও কয়েকদিন মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড়ধস, আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বহাল থাকবে।
জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় কাজ করছে। তিনি সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা এবং পাহাড়ের ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থান না করার আহ্বান জানিয়েছেন।

