খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য সম্মানী ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার নতুন হার নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন ব্যবস্থায় বিভিন্ন শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের মাসিক ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা এবং মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশেষ ভাতার পরিমাণও নির্ধারণ করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ১৫ জুলাই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়েছে, নতুন ভাতার হার ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে।
খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নতুন ভাতা:
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা মূল সম্মানী ভাতা পাবেন। আর বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক খেতাবধারীদের মাসিক মূল সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা।
এ ছাড়া এই তিন শ্রেণির জীবিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা বছরে দুটি উৎসবে প্রতিবার ১০ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা পাবেন। মহান বিজয় দিবসে পাঁচ হাজার টাকা এবং বাংলা নববর্ষে দুই হাজার টাকা করে অতিরিক্ত ভাতাও দেওয়া হবে।
শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের মাসিক ভাতা ৪০ হাজার টাকা:
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের জন্য মাসিক মূল সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ হাজার টাকা। এর সঙ্গে দুই হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং পাঁচ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা যোগ হবে। ফলে পরিবারটি প্রতি মাসে মোট ৪০ হাজার টাকা পাবে।
এ ছাড়া বছরে দুটি উৎসবে প্রতিবার ৩৩ হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা এবং বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দুই হাজার টাকা দেওয়া হবে। তবে মহান বিজয় দিবসের পাঁচ হাজার টাকার বিশেষ ভাতা কেবল জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রযোজ্য হওয়ায় শহীদ পরিবারের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রে বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারকে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
সাধারণ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য মাসিক ৩০ হাজার টাকা:
সাধারণ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক মূল সম্মানী ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার টাকা। এর সঙ্গে দুই হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা এবং পাঁচ হাজার টাকা খাদ্য ভাতা যোগ হয়ে মোট মাসিক ভাতা দাঁড়াবে ৩০ হাজার টাকা। এ ছাড়া বছরে দুটি উৎসবে প্রতিবার ২৩ হাজার টাকা উৎসব ভাতা এবং বাংলা নববর্ষে দুই হাজার টাকা দেওয়া হবে। তবে এই শ্রেণির পরিবারও মহান বিজয় দিবসের পৃথক ভাতার আওতায় থাকবে না।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের চার শ্রেণিতে ভাতা:
পঙ্গুত্বের মাত্রার ভিত্তিতে যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’—এই চার শ্রেণিতে ভাগ করে ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- ‘এ’ শ্রেণি (৯৬–১০০ শতাংশ পঙ্গুত্ব): মূল ভাতা ৩০ হাজার টাকা। চিকিৎসা ভাতা দুই হাজার এবং খাদ্য ভাতা পাঁচ হাজার টাকা মিলিয়ে নিয়মিত মাসিক সুবিধা হবে ৩৭ হাজার টাকা। জীবিত অবস্থায় অতিরিক্ত আট হাজার টাকা সহায়ক ভাতা পাওয়ায় মোট মাসিক সুবিধা দাঁড়াবে ৪৫ হাজার টাকা। তবে এই অতিরিক্ত সহায়ক ভাতা উত্তরাধিকারীরা পাবেন না।
- ‘বি’ শ্রেণি (৬১–৯৫ শতাংশ পঙ্গুত্ব): মূল ভাতা ২৮ হাজার টাকা। চিকিৎসা ও খাদ্য ভাতাসহ মোট মাসিক সুবিধা হবে ৩৫ হাজার টাকা।
- ‘সি’ শ্রেণি (২০–৬০ শতাংশ পঙ্গুত্ব): মূল ভাতা ২৩ হাজার টাকা। চিকিৎসা ও খাদ্য ভাতা যোগ হয়ে মোট মাসিক সুবিধা হবে ৩০ হাজার টাকা।
- ‘ডি’ শ্রেণি (১–১৯ শতাংশ পঙ্গুত্ব): মূল ভাতা ২০ হাজার টাকা। চিকিৎসা ও খাদ্য ভাতাসহ মোট মাসিক ভাতা হবে ২৭ হাজার টাকা।
যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে বছরে দুটি উৎসব ভাতার প্রতিটির পরিমাণ হবে তাদের নিজ নিজ মূল ভাতার সমান। জীবিত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা মহান বিজয় দিবসে পাঁচ হাজার টাকা এবং বাংলা নববর্ষে দুই হাজার টাকা করে পাবেন।
প্রজ্ঞাপনে যা বলা হয়েছে:
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নতুন হার অনুযায়ী সম্মানী ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বিতরণের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মানী ভাতা পাঁচ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাবের ধারাবাহিকতায় নতুন ভাতার হার কার্যকর করা হলো।

