স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং গ্রুপ অব ৭৭ অ্যান্ড চায়না (জি-৭৭) তাদের সমর্থন আবারও নিশ্চিত করেছে। একই সঙ্গে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশের উপস্থাপিত যুক্তিকেও ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস এবং জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘে উরুগুয়ের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে। বৈঠকে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ এবং প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক রূপান্তর, বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ এবং চলমান কাঠামোগত সংস্কার সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের আরও সময় প্রয়োজন। এ কারণেই এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাতকে আরও শক্তিশালী করা, অবকাঠামো উন্নয়ন, অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অতিরিক্ত প্রস্তুতিকাল সংস্কার কার্যক্রমকে আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও স্থিতিশীল করতে সহায়ক হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত স্টাভরোস ল্যামব্রিনিডিস বাংলাদেশের সুশাসন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়ায় ইইউর অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে, জি-৭৭ অ্যান্ড চায়নার চেয়ারম্যান রাষ্ট্রদূত লরা দুপুই লাসেরে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির পক্ষে উপস্থাপিত যুক্তিকে শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি সরকারের বাস্তবভিত্তিক সংস্কার উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের প্রতি জি-৭৭-এর সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ কৌশল নিয়ে একটি বিশেষ ব্রিফিং আয়োজনের প্রস্তাব দেন। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানায়।
বৈঠক শেষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণ যেন মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল হয়, সে লক্ষ্যে ইইউ তাদের অব্যাহত সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেছে।

