বৈশ্বিক ঋণসংকট মোকাবিলায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জাতিসংঘের নেতৃত্বে একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। সরকারের মতে, ঋণ পুনর্গঠন, ঋণের বোঝা কমানো, ঋণ পরিশোধে সাময়িক স্থগিতাদেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সমন্বিত বৈশ্বিক কাঠামো তৈরি করা হলে উন্নয়নশীল দেশগুলো সামাজিক খাতে বিনিয়োগ ধরে রাখতে সক্ষম হবে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের গতি বজায় রাখা সহজ হবে।
আজ শনিবার জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউইয়র্কে ইউনিসেফের সদর দপ্তরে সংস্থাটির মানবিক কার্যক্রম ও সরবরাহ বিভাগের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবানের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এ আহ্বান জানান। বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকীও উপস্থিত ছিলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপ উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিকে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এসব কারণে বাংলাদেশের রাজস্ব সক্ষমতার ওপরও উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিকে সামনে রেখে নারী, শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সীমিত সম্পদের মধ্যেও মানবকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণে কাজ চলছে।
অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা জানান, নতুন সরকার নারীকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে জীবনচক্রভিত্তিক সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। এ লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে গর্ভকাল, শিশুর লালন-পালন, শিক্ষা, প্রতিবন্ধিতা এবং বার্ধক্যসহ জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৈঠকে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকী শিশু ও পরিবারভিত্তিক সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সরকারের প্রস্তাবিত ‘এক শিশু, এক কার্ড, এক নম্বর ও এক ওয়ালেট’ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, এর মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন, বিদ্যালয়ে ভর্তি এবং বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও সহজ, সমন্বিত ও কার্যকর হবে।
তিনি শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ডিজিটাল প্রশিক্ষণ, আধুনিক শিক্ষাসামগ্রীর ব্যবহার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা সম্প্রসারণে ইউনিসেফের সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে বহুভাষাভিত্তিক শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা, জাদুঘর পরিদর্শন এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমকে শিশুদের সামগ্রিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক টেড শেইবান বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়াকেও স্বাগত জানান।
তিনি সীমিত রাজস্ব সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নারী, শিশু এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে শিক্ষা, প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং শিশুকেন্দ্রিক তথ্যব্যবস্থা উন্নয়নে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউনিসেফের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় উন্নয়নশীল দেশগুলোর ঋণসংকট মোকাবিলায় সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। এমন একটি কাঠামো গড়ে উঠলে উন্নয়ন ব্যাহত না করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিশু ও নারীর কল্যাণসহ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা সহজ হবে।

