দেশে হামের সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় উদ্বেগ কাটছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮০ জনে পৌঁছেছে। একই সময়ে নতুন করে ১৪০ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৫ জন। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৬৮৫ জন। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮০ জনে।
বিভাগভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে এখন পর্যন্ত ২৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। এরপর রাজশাহীতে ৮৯ জন, ময়মনসিংহে ৬৬ জন, চট্টগ্রামে ৫৫ জন, বরিশালে ৪৩ জন এবং খুলনা বিভাগে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে কম মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে রংপুর বিভাগে, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৮৭৩ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, সংক্রমণের চাপ এখনো পুরোপুরি কমেনি এবং নতুন রোগী শনাক্তের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো না গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় টিকাদানের হার তুলনামূলক কম, সেখানে নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরও শিশুদের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হামের টিকা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি জ্বর, শরীরে র্যাশ বা হামের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

