বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে এবং গুমের ঘটনায় সরকার ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ আয়োজিত ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার’ শীর্ষক পরামর্শ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক মাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের পর্যায়ে নেমে এসেছে। পাশাপাশি গুমের বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং এ ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যোগ্য ও সৎ বিচারক নিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। বিচারকরা মেরুদণ্ড সোজা রেখে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে বিচারব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের মামলা প্রত্যাহারের জন্য সরকার কাজ করছে এবং বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের চক্র থেকে বের হয়ে দেশকে সংস্কারের পথে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। ২৪ জুলাই থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ জন্য সময় রয়েছে। তাই এখনই বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ১৫ জুলাই থেকে ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন হওয়ার কথা রয়েছে এবং সেই অধিবেশনেই প্রয়োজনীয় বিষয় নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে। দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন—এ প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সময়ই তা বলে দেবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘অধিকার’-এর সভাপতি ড. তাসনীম সিদ্দিকী। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির পরিচালক এ এস এম নাসির উদ্দিন এলান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি মঈনুল ইসলাম চৌধুরী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এবং আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান।

