কর্মদিবসের শুরুতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তিনজন ব্যক্তির হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের মুহূর্তেই তিনি এই নিয়োগপত্র হস্তান্তর করেন।
কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্বাবলম্বী করে তোলা এবং তাদের সমাজের মূল স্রোতে যুক্ত করার উদ্দেশ্যেই এই নিয়োগ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
নিয়োগ পাওয়া তিনজন হলেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার এক নারী, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার আরেক নারী এবং নড়াইল সদর উপজেলার একজন পুরুষ। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র গ্রহণের মুহূর্তে তাঁদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ছাপ। তাঁদের জন্য এই দিনটি ছিল নতুন কর্মজীবনের পাশাপাশি নতুন করে স্বপ্ন দেখারও একটি সূচনা।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজন নারীই শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। তাঁদের একজন জন্ম থেকেই দুই হাত ছাড়াই বেড়ে উঠেছেন এবং পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁকে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্য নারীও একইভাবে পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। হাত না থাকায় তিনি মুখ দিয়ে নিয়োগপত্রটি গ্রহণ করেন, যা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তাঁকে গাইবান্ধার একটি সরকারি স্কুল ও কলেজে ক্লাস সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ওই ব্যক্তিকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ইউনিয়ন সমাজকর্মী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী, সমাজকল্যাণ সচিব, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই তিন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন একটি প্রতিবন্ধী কল্যাণ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা। নিয়োগপত্র প্রদানের পরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ শুধু প্রতীকী স্বীকৃতি নয়, বরং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এককালীন নিয়োগের বাইরে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশগম্যতা, প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা কাঠামো তৈরি করাই প্রকৃত টেকসই অন্তর্ভুক্তির পথ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

