বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে এখন সুস্পষ্ট লঘুচাপে রূপ নিয়েছে এবং এটি মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় অক্ষের সঙ্গে একীভূত হয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী প্রায় ১০ দিন বৃষ্টি ও বজ্রসহ ঝড়ো আবহাওয়ার পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর বর্ধিত অক্ষ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই সক্রিয় মৌসুমি পরিস্থিতির কারণেই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুরুতে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি থাকবে। এসব অঞ্চলের অনেক স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। একই সময়ে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকাতেও দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময় দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৩ ও ৪ আগস্ট থেকে বৃষ্টিপাতের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে। এ সময় দেশের প্রায় সব বিভাগেই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণও হতে পারে।
সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বেশি থাকবে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা বা স্থানীয় দুর্ভোগের পরিস্থিতিও সৃষ্টি হতে পারে।
টানা বৃষ্টিপাতের কারণে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রাতের তাপমাত্রা মোটামুটি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
পাঁচ দিনের বর্ধিত পূর্বাভাসেও ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি চলতে পারে আরও কয়েক দিন। তবে বর্ধিত পূর্বাভাসের শেষ দিকে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।
নাগরিকদের অপ্রয়োজনে খোলা স্থানে অবস্থান না করা, বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা এবং স্থানীয় আবহাওয়া সতর্কবার্তার প্রতি নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

