জ্বালানি খাতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম পিএলসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দেশের একজন সুপরিচিত জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূত্র থেকে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেছেন এবং বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের একটি সভায় তাকে এই দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, এটি ছিল প্রতিষ্ঠানটির সাতশ সাতানব্বইতম পর্ষদ সভা।
কোম্পানির সাম্প্রতিক আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই থেকে মার্চ) শেয়ারপ্রতি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে চৌদ্দ টাকায়, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল আটত্রিশ টাকার বেশি। এই উল্লেখযোগ্য পতন সত্ত্বেও চলতি মার্চ শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় তিনশ টাকায়।
গত হিসাব বছরের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিনিয়োগকারীদের জন্য দুইশ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল কোম্পানির পর্ষদ, যা এর আগের বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি। ওই বছর শেয়ারপ্রতি আয় ছিল প্রায় একষট্টি টাকা, যেখানে তার আগের বছর এটি ছিল পঞ্চাশ টাকার সামান্য বেশি। একইভাবে ধারাবাহিকভাবে গত কয়েক বছরে কোম্পানির লভ্যাংশ ও আয় দুটোই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় রেখেছে—একশ সত্তর শতাংশ থেকে শুরু করে একশ ষাট এবং একশ পঞ্চাশ শতাংশ পর্যন্ত নগদ লভ্যাংশ বিতরণের নজির রয়েছে বিগত বছরগুলোতে, সঙ্গে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্যও প্রতি বছর ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত মূলধন চারশ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন প্রায় একশ আট কোটি টাকা। কোম্পানির সংরক্ষিত তহবিলে জমা রয়েছে প্রায় দুই হাজার আটশ চুরানব্বই কোটি টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা প্রায় দশ কোটি বিরাশি লাখের বেশি, যার প্রায় উনষাট শতাংশই সরকারের মালিকানায় রয়েছে। বাকি অংশের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে প্রায় তেত্রিশ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশ নগণ্য, আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে প্রায় সাড়ে সাত শতাংশ শেয়ার।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন অভিজ্ঞ জ্বালানি বিশেষজ্ঞের নেতৃত্বে আসা এই পরিবর্তন প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষত জ্বালানি খাতের চলমান চ্যালেঞ্জ ও সংস্কারের প্রেক্ষাপটে।

