রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর দাবি উঠেছে। অপরাধ সংঘটনের পর দ্রুত অপরাধী শনাক্ত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ আরও কার্যকর করতে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা বসানোর আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আবেদনটি জমা দেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন রিগ্যান।
আবেদনে তিনি বলেন, রাজধানীতে দিন দিন অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে। একই সঙ্গে অপরাধের ধরনও বদলাচ্ছে। ফলে শুধু প্রচলিত নজরদারি বা তদন্তের ওপর নির্ভর করে সব ক্ষেত্রে দ্রুত অপরাধী শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ কারণে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বের অনেক বড় শহরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা ব্যবহার করে অপরাধ দমন ও অপরাধী শনাক্তে ভালো ফল পাওয়া যাচ্ছে। এসব ক্যামেরা সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত, অপরাধের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি বা যানবাহন চিহ্নিত করা এবং তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আইনজীবী সালাহ উদ্দিন রিগ্যানের মতে, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষের চলাচল হয়। এমন একটি শহরে শুধু জনবল বাড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ নয়। তাই প্রযুক্তির সহায়তা নিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজ আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়, ব্যস্ত সড়ক, গণপরিবহন কেন্দ্র এবং জনসমাগম বেশি হয়—এমন এলাকাগুলোতে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের ক্যামেরা স্থাপন করা হলে অপরাধ প্রতিরোধ ও তদন্ত—দুই ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।
আবেদনে জনস্বার্থ ও নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপনের জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধও জানানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নগর নিরাপত্তা জোরদারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, তথ্যের নিরাপত্তা এবং জবাবদিহিতাও সমান গুরুত্বের সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে। তাই এ ধরনের কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি প্রয়োজন হবে সুস্পষ্ট নীতিমালা ও কার্যকর তদারকিরও।

