ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারাজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরই মধ্যে নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে নদীর পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে, ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বুধবার সকালে ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৮ সেন্টিমিটার, যেখানে এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার। অর্থাৎ তিস্তার পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৯টা ও ১০টায় পানির উচ্চতা একই মাত্রায় স্থির ছিল।
আবহাওয়ার বিরূপ পরিস্থিতির কারণে বুধবার এলাকায় ১৩২ দশমিক শূন্য মিলিমিটার গড় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষণের পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা অতিরিক্ত পানির চাপ তিস্তার পানি দ্রুত বাড়িয়ে দিয়েছে।
নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি প্রবেশ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলোও পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মুখে রয়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবং উজান থেকে আরও পানি নামলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিচু এলাকার মানুষকে বাড়তি সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, সকাল ৬টা থেকেই তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। অতিরিক্ত পানির চাপ সামাল দিতে ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে নদীর প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা যায় এবং ব্যারাজের ওপর চাপ কমানো সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা অববাহিকায় বর্ষাকালে উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাত একসঙ্গে দেখা দিলে অল্প সময়ের মধ্যেই নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে পানি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নদীতীরবর্তী এলাকায় আগাম সতর্কতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি বৃষ্টিপাত ও উজানের পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকে, তাহলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

