ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ে নতুন একটি সহায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে সাতটি চেম্বার এবং নয়টি ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মোট ষোলো সদস্যের এই কমিটি সংগঠনটির পরিচালনায় সহায়তা করবে।
গতকাল মঙ্গলবার এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই কমিটি গঠন করেন এফবিসিসিআইয়ের বর্তমান প্রশাসক। আদেশে উল্লেখ করা হয়, বাণিজ্য সংগঠন আইন অনুযায়ী এই কমিটি গঠিত হয়েছে এবং এ বিষয়ে গত রোববার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, অতীতেও এফবিসিসিআইয়ে এ ধরনের সহায়ক কমিটি গঠনের নজির রয়েছে।
চেম্বার গ্রুপের প্রতিনিধি হিসেবে কমিটিতে স্থান পেয়েছেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, মেট্রোপলিটন ও রংপুর চেম্বারের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তাদের একটি চেম্বার সংগঠনের প্রতিনিধিও রয়েছেন এই তালিকায়।
অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপ থেকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্প, বস্ত্রকল, পাটকল, ওষুধ শিল্প, ব্যাংক মালিক সমিতি, নিট পোশাকশিল্প, প্লাস্টিকপণ্য রপ্তানিকারক, আবাসনশিল্প এবং পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর সভাপতিরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ফেডারেশন পরিচালনায় সহায়তার উদ্দেশ্যেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুভূত হলে ভবিষ্যতে কমিটির সদস্যসংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই বর্তমান প্রশাসককে একশ বিশ দিনের জন্য এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে গত ২৭ জুন সাবেক প্রশাসকের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রায় এক মাস পদটি শূন্য ছিল।
প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এফবিসিসিআইয়ের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদের পদত্যাগের দাবিতে সংগঠনের একাংশ সদস্য সোচ্চার হয়ে ওঠেন। এই চাপের মুখে তৎকালীন সভাপতি স্বপদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ওই বছরের সেপ্টেম্বরে ফেডারেশনের পুরো পর্ষদ বাতিল করে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের এক সদস্যকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যিনি সে সময় প্রথমবারের মতো একটি সহায়ক কমিটি গঠন করেছিলেন।
ব্যবসায়ী মহল মনে করছে, বিভিন্ন খাত-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি সংগঠনের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে এবং ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানা যায়নি।

