দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে কিছুটা স্বস্তির বার্তা এসেছে জ্বালানি খাত থেকে। দীর্ঘ কয়েক দিনের সরবরাহ সংকটের পর মহেশখালীর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল থেকে আজ ৫ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যার পর জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর ফলে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আবাসিক খাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা উন্নত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। তিনি জানান, মহেশখালী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনালের দুটি বয়লার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে একসঙ্গে অচল হয়ে পড়ায় গ্যাস সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নেমে গিয়েছিল। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে দেশের সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থায়।
তিনি জানান, দেশি ও বিদেশি প্রকৌশলীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি বয়লার ইতোমধ্যে মেরামত করা সম্ভব হয়েছে। সেটি পুনরায় চালু হওয়ায় আজ বুধবার সন্ধ্যা থেকেই জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। এর ফলে গত কয়েক দিনে যে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা হলেও কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সংকট পুরোপুরি কাটতে এখনো কিছুটা সময় লাগবে। কারণ দ্বিতীয় বয়লারটির মেরামতের কাজ এখনো শেষ হয়নি। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, সেটি সচল করতে আরও এক থেকে দুই দিন সময় লাগতে পারে। দ্বিতীয় বয়লারও চালু হলে মহেশখালী টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িকভাবে অতিরিক্ত গ্যাস যুক্ত হলেও এটি কেবল তাৎক্ষণিক চাপ কমানোর একটি পদক্ষেপ। দেশের শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নগর এলাকার গ্যাসের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ফলে কেবল একটি বয়লার চালু হওয়ার মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পুরো অবকাঠামো সচল রাখা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সময়ে গ্যাসের ঘাটতির কারণে বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, আবার বিদ্যুৎ উৎপাদনেও চাপ তৈরি হয়েছে। আবাসিক এলাকায়ও অনেক গ্রাহক দিনের বিভিন্ন সময়ে পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ২০০ থেকে ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার ঘোষণা শিল্প ও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শিল্প উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকি মোকাবিলায় বিকল্প অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

