দেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে আবাসিক ভবনে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লাগার প্রবণতা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে দেশে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৮টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬৩১ জন। আগুন নেভাতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের ১৭ কর্মী।
পরিসংখ্যান বলছে, অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম প্রধান কারণ বৈদ্যুতিক গোলযোগ। ২০২১ সালে মোট ২১ হাজার ৬০১টি অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে ৩৭ শতাংশের সূত্রপাত হয় বৈদ্যুতিক ত্রুটি থেকে। ওই বছর ৫ হাজার ৯৬১টি আবাসিক ভবন ও বাসাবাড়িতে আগুন লাগে। ২০২২ সালে অগ্নিকাণ্ড বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ হাজার ১০২টিতে। এর মধ্যে ৩৮ শতাংশের বেশি আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে। আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা বেড়ে হয় ৬ হাজার ৬৭৪টি।
২০২৩ সালে দেশে ২৭ হাজার ৬২৪টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লাগে ৯ হাজার ৮১৩টি ঘটনায়। ওই বছর ৭ হাজার ১০৩টি বাসাবাড়ি ও সুউচ্চ ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০২৪ সালে মোট অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা কিছুটা কমে ২৬ হাজার ৬৫২ হলেও বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লাগার ঘটনা ছিল ৯ হাজার ৬৯টি। ওই বছর আবাসিক ভবনে আগুন লাগে ৭ হাজার ২৮৪টিতে।
২০২৫ সালে দেশে ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ৩৫ শতাংশের বেশি আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে। ওই বছর ৮ হাজার ৭০৫টি আবাসিক ভবনে আগুন লাগে। অর্থাৎ ২০২১ সালের তুলনায় পাঁচ বছরে আবাসিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ।
পাঁচ বছরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাসাবাড়ি ও আবাসিক ভবনে মোট ৩৫ হাজার ৭২৭টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। একই সময়ে তৈরি পোশাক কারখানায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে ১ হাজার ৯৬৩টি এবং বস্তিতে ৬৯২টি।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলছেন, নিম্নমানের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার, ভবনের নির্ধারিত বৈদ্যুতিক সক্ষমতার চেয়ে বেশি লোডের সরঞ্জাম ব্যবহার এবং দীর্ঘদিন বৈদ্যুতিক সংযোগ ও তার পরীক্ষা না করায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে পুরোনো তার পরিবর্তন না করেও বছরের পর বছর ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা নিয়মিত বৈদ্যুতিক তার ও সংযোগ পরীক্ষা করার পাশাপাশি ত্রুটি পাওয়া গেলে দ্রুত তা পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবনের অনুমোদিত বৈদ্যুতিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরঞ্জাম ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাসাবাড়িতে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিঝুঁকিও বাড়ছে। রান্নার কাজে বিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং অনেক ভবনে অনুমোদিত লোডের চেয়ে বেশি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। তাই নিয়মিত বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা, মানসম্মত তার ব্যবহার এবং সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে আবাসিক অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

