দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবর্জনার স্তূপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল পরিবেশ, ভোগান্তির মুখে পড়ছিলেন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে ডিজিটাল অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম ‘হ্যালো ডিসি’তে সমস্যাটি জানানোর পর মাত্র একদিনের মধ্যেই সমাধান হয়ে গেল ঢাকার কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের দীর্ঘদিনের ময়লার স্তূপ। বিদ্যালয় সংলগ্ন খাল ও ব্রিজের নিচে জমে থাকা যাবতীয় বর্জ্য পুরোপুরি অপসারণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রোববার জেলা প্রশাসক ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপে পাওয়া অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর দ্রুততার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা খাল ও ব্রিজের নিচে জমে থাকা আবর্জনা সরিয়ে জায়গাটি পরিচ্ছন্ন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, কলাতিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকার বাসাবাড়ির বর্জ্য দীর্ঘদিন ধরে খালের পাড় ও ব্রিজের নিচে ফেলা হচ্ছিল। ধীরে ধীরে এই আবর্জনা জমে বিশাল আকারের স্তূপে পরিণত হয়, যা পচে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি খালের পানি ও আশপাশের পরিবেশকেও দূষিত করে তুলছিল।
যেহেতু কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়টি এই ময়লার স্তূপের একেবারে পাশেই অবস্থিত, তাই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছিলেন সেখানকার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে তাঁদের দুর্গন্ধ ও ময়লার মধ্য দিয়েই চলাচল করতে হতো। একই সমস্যায় পড়েছিলেন পথচারী ও এলাকার বাসিন্দারাও।
এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি ‘হ্যালো ডিসি’ অ্যাপের মাধ্যমে জেলা প্রশাসনের নজরে আনা হলে দ্রুতই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে খাল ও ব্রিজের নিচের ময়লা সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করে জায়গাটি পরিষ্কার করে।
দীর্ঘদিনের এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, এত দিন ধরে সমস্যাটি নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলেও অভিযোগ জানানোর পর অল্প সময়ের মধ্যেই সমাধান পাওয়ায় তাঁরা জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাগরিকদের দৈনন্দিন বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যেই ‘হ্যালো ডিসি’ নামের এই সেবা চালু করা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মে আসা অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে বলেন, নাগরিকদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে ‘হ্যালো ডিসি’ কার্যকর একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। কলাতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের ময়লার স্তূপের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্টদের দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলশ্রুতিতে সেখানকার আবর্জনা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের চলাচলের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখা সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। এ জন্য যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার ব্যাপারে স্থানীয়দেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, ‘হ্যালো ডিসি’র মাধ্যমে আসা নাগরিক অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ চলমান থাকবে।

