প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী মাসে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের সম্প্রসারিত অধিবেশনে অংশ নেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ। সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানেই ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, ব্রিকসের সম্প্রসারিত অধিবেশনে অংশ নেওয়ার যে আমন্ত্রণ তারেক রহমান পেয়েছেন, সেটি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁকে দেওয়া হয়নি। বরং বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হওয়ায় সেই পরিচয়ে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
খলিলুর রহমান বলেন, আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দেওয়া হয়েছে—এই পার্থক্যটি বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের সম্প্রসারিত অধিবেশনে অংশ নেওয়ার জন্য ভারত তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। আমন্ত্রণপত্রে তাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
তবে এর বাইরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আলাদাভাবে ভারত সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নতুন সরকার গঠনের দিনই মোদির পাঠানো ওই চিঠি তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ভারত সফরের আমন্ত্রণ রয়েছে এবং বিষয়টি সরকার পর্যালোচনা করবে।
তবে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে সোমবারের বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়ে আলোচনায় দুটি পৃথক আমন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একটি হলো ব্রিকস সম্মেলনের সম্প্রসারিত অধিবেশনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ। অন্যটি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে ভারত সফরের আমন্ত্রণ।
দুই আমন্ত্রণের উদ্দেশ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রেক্ষাপট এক নয়। ব্রিকসের অধিবেশনে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে অংশগ্রহণ করলে সেটি একটি বহুপাক্ষিক আয়োজনের অংশ হবে। অন্যদিকে আলাদা ভারত সফর হবে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের কাঠামোর মধ্যে।
এই পার্থক্যের কারণেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিষয়টি বিভিন্ন দিক থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

