জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই চলবে না, একই সঙ্গে সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতাতেও পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা কেন্দ্র ও জাতিসংঘের একটি সংস্থার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক নীতিসংলাপ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবনের একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন সংশ্লিষ্ট গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন এবং জাতিসংঘের ওই সংস্থার একজন উপ-প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে আইনের চোখে জেন্ডার সমতা অর্জন নিয়ে একটি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন অধ্যাপক।
বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলা অপরিহার্য, আর এই কাজে শিক্ষিত তরুণ সমাজকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন গবেষণাভিত্তিক নীতিপত্র তৈরির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর। তাঁর মতে, তরুণদের জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তিকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে অনুষ্ঠিত একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের একজন সিনিয়র আইনজীবী, একটি নারী অধিকারভিত্তিক সংগঠনের একজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক, যিনি নিজে একজন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজও।
অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক, আর অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বিভাগের দুজন শিক্ষার্থী।
প্যানেল আলোচনায় বক্তারা বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন ও নীতিমালায় জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি, তা বাস্তবায়নের পথে থাকা নানা চ্যালেঞ্জ, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং নারীর ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথ নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। তাঁরা একমত হন যে, জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে শিক্ষা, আইনি সুরক্ষা, সামাজিক সচেতনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা—এই চারটি উপাদানের সমন্বিত উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আইনি কাঠামো তৈরি করে জেন্ডার বৈষম্য দূর করা যাবে না, বরং পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রসহ সমাজের প্রতিটি স্তরে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে গেলেই প্রকৃত সমতাভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব হবে।

