পুলিশ বাহিনীতে বড় ধরনের রদবদল ঘটিয়ে সাতজন সহকারী পুলিশ সুপার এবং ৪৯ জন পরিদর্শককে বাধ্যতামূলকভাবে অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ নম্বর ধারার বিধান অনুসারে জনস্বার্থ বিবেচনায় এই কর্মকর্তাদের চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। তবে বিধি অনুযায়ী তাঁরা প্রাপ্য সব ধরনের অবসরকালীন আর্থিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
অবসরে পাঠানো সহকারী পুলিশ সুপারদের মধ্যে রয়েছেন র্যাব সদর দপ্তরের নূরে আলম সিদ্দিকী, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের নুরুল মোস্তাকিন, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা সার্কেলের কাজী ওয়াজেদ আলী, পটুয়াখালীর গলাচিপা সার্কেলের সৈয়দুজ্জামান, র্যাব-২-এর গোলাম কিবরীয়া, রিজার্ভ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) মিজানুর রহমান এবং সিরাজগঞ্জ জেলার রবিউল ইসলাম।
এই তালিকায় থাকা পরিদর্শকরা দেশের বিভিন্ন জেলা পুলিশ, মহানগর পুলিশ ইউনিট, সিআইডি, পিবিআই, বিশেষ শাখা (এসবি), র্যাব, সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন। এর মধ্যে রয়েছেন জামালপুরের কোর্ট পুলিশে কর্মরত আবুল হোসেন, নোয়াখালীর সদর সার্কেল অফিসের কামরুল ইসলাম মোল্যা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অপরাধ শাখার মুজিবুর রহমান, বিশেষ শাখার স্কুল অব ইন্টেলিজেন্সের জাবেদুল ইসলাম, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ সার্কেলের মজিবর রহমান, গাজীপুরের রিজার্ভ অফিসের মিজানুল হক, গাজীপুর জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশে কর্মরত মীর মোশারফ হোসেন, চাঁদপুরের কন্ট্রোল রুমের সফিকুল ইসলাম, ঢাকার সিআইডির মনিরুজ্জামান, টাঙ্গাইলের কোর্ট পুলিশের আজহারুল ইসলাম সরকার এবং বরিশাল রেঞ্জ অফিসে সংযুক্ত (সাময়িক বরখাস্তকৃত) কামরুল ইসলাম।
তালিকায় আরও আছেন বিশেষ শাখার পরিকল্পনা ও গবেষণা শাখার নাসিম, পিবিআই ঢাকা মেট্রো সিটির মোফাজ্জেল হোসেন, সিআইডি ঢাকা মেট্রো সাউথের জিয়াউল মোর্শেদ, মাগুরার কোর্ট পুলিশের সুনীল কুমার কর্মকার, কুষ্টিয়া গোয়েন্দা শাখার আজমল হুদা, গাজীপুরের শিল্পাঞ্চল পুলিশ-২-এর স্বপন কুমার মজুমদার, মুন্সিগঞ্জ সিআইডির বেলায়েত হোসেন, টঙ্গী পূর্ব থানার সাবেক ওসি মেহেদী হাসান, পিবিআই রেকর্ড শাখার মনিরুজ্জামান, সিআইডি লজিস্টিকসের এনামুল হক, কক্সবাজার সিআইডির বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর, চট্টগ্রাম পিবিআইয়ের বাবুল আকতার এবং বিশেষ শাখার রাজনৈতিক সেন্ট্রাল শাখার আহসানুল কাদের ভূঞা।
এ ছাড়া লক্ষ্মীপুরের কোর্ট পুলিশের এম এ জলিল, রংপুর পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাহান হক, রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির মশিউর রহমান, গাজীপুর জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশের সিদ্দিকুর রহমান, খুলনা পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাহমুদুল হক, সিআইডি মিডিয়া শাখার নজরুল ইসলাম, সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের সাহিদুর রহমান, খাগড়াছড়ি বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ফরমান আলী, নোয়াখালী পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের রফিকুল ইসলাম, খুলনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রলয় কুমার সাহা, প্রথম এপিবিএনের মিজানুর রহমান, কক্সবাজার জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশের আশরাফ উদ্দিন, চট্টগ্রাম রেলওয়ে পুলিশের নুরুল হুদা এবং জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট নৌ থানার ইনচার্জ নিবারণ চন্দ্র বর্মনও রয়েছেন এই তালিকায়।
তালিকার শেষ অংশে রয়েছেন রাজশাহীর তানোর থানার সাবেক ওসি মাসুদ পারভেজ, সারদা পুলিশ একাডেমির গোলাম মোস্তফা, ঝালকাঠি বিশেষ শাখার মোস্তফা কামাল হায়দার, সিলেট সিআইডির হারুন অর রশীদ, সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের খায়রুল ফজল, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ইসমাইল হোসেন, বিশেষ শাখার এমদাদুল হক, কক্সবাজার ১৪ এপিবিএনের সমীর চন্দ্র সূত্রধর, যমুনা সেতু পশ্চিম নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আখতারুজ্জামান প্রধান, সিআইডির নান্নু মোল্লা এবং কুমিরা হাইওয়ে থানার ওসি জাকির রব্বানী।
সব মিলিয়ে একসঙ্গে এতসংখ্যক কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানোর এই সিদ্ধান্তকে পুলিশ প্রশাসনে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

