আজ ১৫ আগস্ট, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা ও দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সেনাবাহিনীর একদল সদস্যের হাতে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ প্রাণ হারান তিনি। সেই নৃশংস ঘটনায় রেহাই পাননি ছয় বছরের শিশু কিংবা অন্তঃসত্ত্বা নারীও।
ঘটনার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবনে হামলা চালানো হয়। এতে শেখ মুজিবুর রহমান ছাড়াও প্রাণ হারান তাঁর স্ত্রী, তিন ছেলে এবং দুই পুত্রবধূ। একই সঙ্গে নিহত হন তাঁর ছোট ভাইও। সেই রাতেই আরও প্রাণ যায় তাঁর নিকটাত্মীয়দের—বোনের পরিবারের একাধিক সদস্য, ভাগ্নে ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীসহ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। এ ছাড়া নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তা ও একজন সামরিক কর্মকর্তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।
সেই সময় দেশের বাইরে অবস্থানের কারণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা। তাঁকে দাফন করা হয় জন্মভূমি গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায়, আর পরিবারের অন্য সদস্যদের সমাহিত করা হয় রাজধানীর একটি কবরস্থানে।
১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেন শেখ মুজিবুর রহমান। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ছাত্র সংগঠন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি। এরপর ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন এবং ছয় দফা কর্মসূচি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলার প্রধান আসামি হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি জাতীয় পর্যায়ে সর্বজনস্বীকৃত নেতৃত্বে উঠে আসেন।
পরের বছর গণআন্দোলনের মুখে কারামুক্ত হলে তাঁকে জাতির পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মানসূচক উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ১৯৭১ সালের মার্চে ঢাকায় এক জনসভায় স্বাধীনতার আহ্বান জানান তিনি, যার ধারাবাহিকতায় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মাথায় সপরিবারে নিহত হন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে ১৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক দিবস হিসেবে পালন করা হতো, এই দিনে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হতো। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি স্মরণ করত। তবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশব্যাপী গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে গত বছর থেকে ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

