Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, আগস্ট 17, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যস্ত বিএনপি, সংগঠন ও সংস্কার কোন পথে?
    বাংলাদেশ

    রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যস্ত বিএনপি, সংগঠন ও সংস্কার কোন পথে?

    নিউজ ডেস্কUpdated:আগস্ট 17, 2026আগস্ট 17, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    রাজনৈতিক দলের জন্য ক্ষমতায় যাওয়া একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় অর্জন এবং সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। অর্জন এই অর্থে যে, দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফল হাতে আসে, রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ মেলে। আর ঝুঁকি এই কারণে যে, ক্ষমতার মোহে সংগঠন নিজেই একদিন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়তে পারে—দলটা কি এখনো একটা রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বেঁচে আছে, না কি ধীরে ধীরে রাষ্ট্রযন্ত্রের একটা অংশে রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে?

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপির ছয় মাসের সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা এই প্রশ্নটাকেই সামনে নিয়ে এসেছে, এবং এই প্রশ্নের উত্তর শুধু একটা দলের ভবিষ্যৎ নয়, দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভবিষ্যৎও অনেকাংশে নির্ধারণ করবে।

    সংগঠন যখন থমকে যায়

    দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ক্ষমতার বাইরে থেকেও বিএনপি যে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল, তা অস্বীকারের উপায় নেই। কিন্তু সরকার গঠনের পর সেই সক্রিয়তা লক্ষণীয়ভাবে স্তিমিত হয়ে পড়েছে বলে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলোই স্বীকার করছে। দিবসভিত্তিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে বড় ধরনের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কর্মসূচি এই ছয় মাসে চোখে পড়েনি। উল্টো, বিরোধী দলগুলোই সংসদের ভেতরে-বাইরে অপেক্ষাকৃত বেশি সক্রিয় থাকার চেষ্টা করেছে। এই বৈপরীত্য কাকতালীয় নয়—এটা ক্ষমতাসীন দলের একটা সাধারণ প্রবণতার প্রতিফলন, যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব সংগঠনের রাজনৈতিক তৎপরতাকে গ্রাস করে ফেলে।

    এর পেছনে কাঠামোগত কারণও স্পষ্ট। দলের মাঠপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের একটা বড় অংশ এখন সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, কিংবা স্থানীয় সরকারের প্রশাসকের দায়িত্বে। ছাত্র ও যুব সংগঠনের অনেক নেতাও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পেয়েছেন। ফলে যাঁদের সংগঠন সচল রাখার কথা ছিল, তাঁরাই এখন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ব্যস্ত। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের একটা অংশও এই সুযোগের মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ খুঁজছেন—কেউ আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে এমপি-মন্ত্রীদের দ্বারস্থ হচ্ছেন, কেউ ব্যবসায়িক সুযোগ খুঁজছেন, কেউবা সরকারি কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জনসম্পৃক্ততার বদলে ক্ষমতার কেন্দ্র ঘিরে ব্যস্ততাই যেন এখন মাঠের রাজনীতির প্রধান চরিত্র হয়ে উঠেছে।

    দলের নেতৃত্ব নিজেও এই ঝুঁকি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত নন, তা বলা যাবে না। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, সরকারকে সহযোগিতা করা মানে দল সরকারে বিলীন হয়ে যাওয়া নয়। কিন্তু কথা আর বাস্তবতার মধ্যে ফারাক থেকেই যাচ্ছে। সংগঠন পুনর্গঠনের যে উদ্যোগ ছয় মাস পর দৃশ্যমান হচ্ছে—অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতৃত্ব ঢেলে সাজানো, তৃণমূলের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক—তা থেকে বোঝা যায়, দলের ভেতরেও এই স্থবিরতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন হলো, এই উদ্যোগ যথেষ্ট দ্রুত এবং যথেষ্ট গভীর কি না।

    রাষ্ট্র পরিচালনার যুক্তি, রাজনৈতিক মূল্য

    সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর একটি নির্বাচিত সরকারের প্রথম দায়িত্ব ছিল প্রশাসন স্বাভাবিক করা, অর্থনীতি সামলানো এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করা। এই যুক্তি অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই। কৃষক কার্ড, পরিবার কার্ড, খাল খনন কিংবা বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচি বাস্তবেই শুরু হয়ে গেছে, যা নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ ছিল। এসব উদ্যোগ প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন, এবং একটি নতুন সরকারের প্রথম ছয় মাসে এই ধরনের অগ্রাধিকার অস্বাভাবিক নয়।

    তবে রাষ্ট্র পরিচালনা আর দলীয় সংগঠন সচল রাখা—এই দুটো দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করার যে চ্যালেঞ্জ, তা থেকে বিএনপি এখনো মুক্ত হতে পারেনি। রাজনৈতিক ইতিহাস বলে, ক্ষমতাসীন দল যখন সংগঠনের চেয়ে প্রশাসনকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তখন দীর্ঘমেয়াদে তার রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে তৃণমূলে যখন নেতা-কর্মীদের রাজনৈতিক উদ্দীপনা কমে গিয়ে তা নিছক পৃষ্ঠপোষকতা প্রাপ্তির প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়, তখন সেই দল ভবিষ্যতের কোনো রাজনৈতিক পরীক্ষায়—নির্বাচন হোক বা আন্দোলন—দুর্বল অবস্থানে পড়তে পারে।

    যেখানে ইতিবাচকতা আছে

    এই বিশ্লেষণের ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে স্বীকার করতে হবে, সরকারের ছয় মাসের কিছু দিক প্রশংসনীয়। রাজনৈতিক পরিসর তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত থেকেছে, বিরোধী দল ও ভিন্নমতের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়নের কোনো নজির এই সময়ে দেখা যায়নি। গণমাধ্যম সরকারের সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারছে, নাগরিক সমাজও স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করছে। দীর্ঘদিন কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিজ্ঞতার পর এই আপেক্ষিক স্বস্তি নিঃসন্দেহে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন, এবং এই অর্জনকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

    কিন্তু গণতান্ত্রিক পরিসরের এই উন্মুক্ততা যথেষ্ট নয়, যদি তার সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অগ্রগতি না থাকে। আর এখানেই সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা প্রকট হয়ে উঠছে।

    সংস্কারের প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবতার দূরত্ব

    গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার ছিল প্রায় সব রাজনৈতিক দলের অভিন্ন অঙ্গীকার। বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, পুলিশ ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কার নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক ঐকমত্যও তৈরি হয়েছিল। বিএনপিও এই ঐকমত্যের অংশীদার ছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর কোন সংস্কার অগ্রাধিকার পাবে, কোনটা পরে হবে, আর কোনটার জন্য আরও রাজনৈতিক সমঝোতা প্রয়োজন—এই প্রশ্নে দলটির অবস্থান নিয়ে সমালোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।

    এই সমালোচনার একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকার পরও সংস্কারের গতি প্রত্যাশিত মাত্রায় দেখা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক শক্তির ঘাটতি এখানে কোনো অজুহাত হতে পারে না, কারণ প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকারের হাতেই আছে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে, সংস্কার বাস্তবায়নে যে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে, তা সক্ষমতার অভাব, না কি অগ্রাধিকারের প্রশ্ন? গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, সরকারের বাস্তব আচরণ তার কতটা কাছাকাছি, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায় বিএনপিকে নিতেই হবে। নির্বাচনী বিজয় সরকার গঠনের বৈধতা দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা দলটির ওপর যে অতিরিক্ত রাজনৈতিক দায় তৈরি করেছে, তা থেকে সহজে মুক্তি নেই।

    এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য বোঝা দরকার। ক্ষমতায় আসার আগে যে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া তুলনামূলক সহজ, কারণ তখন বাস্তবায়নের দায় থাকে না। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিক সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। এই বাস্তবতা স্বীকার করা প্রয়োজন। তবে জুলাই সনদে যে বিস্তৃত রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল, তার ভিত্তিতে অন্তত কিছু সংস্কার দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল, বিশেষ করে যে সব ক্ষেত্রে দলীয় মতানৈক্য সীমিত। সেই সুযোগ কতটা ব্যবহৃত হয়েছে, তা নিয়েই মূল প্রশ্ন।

    স্থানীয় নির্বাচন: আসন্ন পরীক্ষার ছায়া

    এই বছরের মধ্যেই সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা সরকার জানিয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। কিন্তু এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন—তৃণমূলের এই তৎপরতার কেন্দ্রে আছে দলীয় সমর্থন পাওয়ার প্রতিযোগিতা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বা জনসম্পৃক্ততা নয়। এমপি-মন্ত্রীদের কাছে ধরনা দেওয়া, নিজের অবস্থান জানান দেওয়া—এই ধরনের কার্যক্রম সাংগঠনিক সক্রিয়তার প্রতিফলন নয়, বরং পৃষ্ঠপোষকতা-নির্ভর রাজনীতির লক্ষণ।

    এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে দলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন এমন একটা পরীক্ষা, যেখানে দলীয় প্রতীক থাকুক বা না থাকুক, প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনসম্পৃক্ততা ও তৃণমূলে সংগঠনের বাস্তব উপস্থিতি বড় ভূমিকা রাখে। যদি এই সময়ে দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি মূলত কেন্দ্রীভূত পৃষ্ঠপোষকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, প্রকৃত জনসম্পৃক্ততা গড়ে না ওঠে, তা হলে নির্বাচনী ফলাফলে তার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। ক্ষমতাসীন দলের জন্য এটা একটা পরিচিত ফাঁদ—ক্ষমতার আরাম থেকে সাংগঠনিক ভিত্তি অবহেলিত হয়ে পড়া, আর যখন নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হয়, তখন সেই ভিত্তির দুর্বলতা প্রকট হয়ে ধরা পড়ে।

    নিয়োগ-সংক্রান্ত বিতর্কও এই ছয় মাসে একটা বড় অস্বস্তির জায়গা হয়ে উঠেছে। ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারবার। দলীয় ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়াকে কেউ কেউ পুনর্বাসন হিসেবে দেখছেন।

    এখানে ভারসাম্যের প্রশ্নটা গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক সরকার আস্থাভাজন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসাবে, এটা কোনো নতুন বা ব্যতিক্রমী চর্চা নয়—বিশ্বের প্রায় সব গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতেই এর নজির আছে। কিন্তু বিএনপির ক্ষেত্রে সমস্যাটা একটু ভিন্ন প্রকৃতির। দলটি দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে এসেছে, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে মেধার বদলে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়ার সমালোচনা করে এসেছে। এখন নিজেদের প্রতিটি নিয়োগ সিদ্ধান্তও মানুষ সেই একই মানদণ্ডে বিচার করছে। নির্বাচনী ইশতেহারে মেধাভিত্তিক নিয়োগের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তার সঙ্গে বাস্তব নিয়োগ প্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য কতটা, এই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ দলটির নেই। অতীতের সমালোচনা যত জোরালো ছিল, ভবিষ্যতে নিজের আচরণের মূল্যায়নও ততটাই কঠোর হবে—এটাই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার স্বাভাবিক নিয়ম।

    অর্থনীতি ও জনজীবনের চাপ

    রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রশ্নের বাইরে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক বাস্তবতা। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ পরিস্থিতি, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং রাজস্ব আদায়—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সরকারকে একযোগে লড়তে হচ্ছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের সংকট বিশেষভাবে দৃশ্যমান, যদিও এই সংকট তীব্র হওয়ার পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি—বিশেষত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব—উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে বলে স্বীকার করা প্রয়োজন। অর্থাৎ এই সংকটের পুরো দায় সরকারের ওপর চাপানো ন্যায্য হবে না।

    তবু বাস্তবতা হলো, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির একটা বড় অংশ ছিল মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেন্দ্র করে। বিদ্যুৎ-গ্যাসের ঘাটতি ও ক্রমবর্ধমান বাজার-চাপ সরাসরি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে, এবং তার রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও অনিবার্য।

    ইতিহাসও এই ঝুঁকির কথা মনে করিয়ে দেয়—২০০১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলেও বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উগ্রবাদী তৎপরতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছিল। বর্তমান সরকারের প্রথম ছয় মাসেই এই পুরো চ্যালেঞ্জগুলোর কয়েকটি নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে, যা ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির একটা অস্বস্তিকর ইঙ্গিত বহন করে।

    বিরোধী দল ও আওয়ামী লীগের সামনে যে চ্যালেঞ্জ

    শুধু ক্ষমতাসীন বিএনপি নয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের এই পর্যায়ে বিরোধী দল ও আওয়ামী লীগের সামনেও নিজস্ব কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়ে আছে—

    বিরোধী দলের চ্যালেঞ্জ:

    সরকারের ভুল-ত্রুটি ও নীতিগত দুর্বলতা তুলে ধরার সুযোগ থাকলেও, নিছক সমালোচনার বাইরে গিয়ে বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প নীতি হাজির করাই এখন বিরোধী দলগুলোর জন্য প্রধান পরীক্ষা।

    সংসদের ভেতরে-বাইরে সক্রিয় থাকার সুযোগ পেলেও, সেই সক্রিয়তাকে সাংগঠনিক শক্তি ও জনসম্পৃক্ততায় রূপান্তরিত করা একটা আলাদা চ্যালেঞ্জ—নিছক প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি দীর্ঘমেয়াদে যথেষ্ট নয়।

    রাজনৈতিক পরিসর তুলনামূলক উন্মুক্ত থাকার এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনভিত্তি পুনর্নির্মাণ করাই বিরোধী দলগুলোর সামনে সবচেয়ে বড় সুযোগ ও দায়িত্ব, একই সঙ্গে।

    একাধিক বিরোধী দলের উপস্থিতিতে পরস্পরের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান গড়ে তোলা, না কি বিচ্ছিন্নভাবে প্রতিযোগিতা করা—এই কৌশলগত সিদ্ধান্তও তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক শক্তি নির্ধারণ করবে।

    আওয়ামী লীগের চ্যালেঞ্জ:

    দীর্ঘ শাসনামলে দমন-পীড়ন, দলীয়করণ ও গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার অভিজ্ঞতার পর দলটির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, রাজনৈতিক পুনর্বাসনের পথ আদৌ কতটা খোলা, এবং সেই পথ খুঁজে পেতে দলটিকে কী ধরনের আত্মজিজ্ঞাসা ও অবস্থান পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

    অতীত শাসনামলের ব্যর্থতা ও অভিযোগের দায় স্বীকার না করে সরাসরি রাজনৈতিক পুনরুত্থানের চেষ্টা করলে জনআস্থা অর্জন কঠিন হবে বলে বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন।

    গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলটির সাংগঠনিক কাঠামো, নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক বয়ান—তিনটি ক্ষেত্রেই ব্যাপক পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন তৈরি হয়েছে, যা সহজ প্রক্রিয়া নয়।

    ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় ফিরতে হলে দলটিকে প্রমাণ করতে হবে, তারা অতীতের কর্তৃত্ববাদী চর্চা থেকে প্রকৃতপক্ষে সরে এসেছে—নিছক মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই আস্থা অর্জন সম্ভব নয়।

    এই চ্যালেঞ্জগুলো মনে রাখা জরুরি এই কারণে যে, বিএনপির সাংগঠনিক পরীক্ষা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক রূপান্তর নির্ভর করছে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী, উভয় পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণের ওপর।

    দ্বৈত দায়িত্বের রাজনৈতিক পরীক্ষা

    এই পুরো চিত্রকে একসঙ্গে মিলিয়ে দেখলে একটা কেন্দ্রীয় সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে—বিএনপি এখন একইসঙ্গে দুই ভূমিকায় আবদ্ধ। একদিকে তারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সরকার, অন্যদিকে তারা একটা রাজনৈতিক সংগঠন, যাকে ভবিষ্যতের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক পরীক্ষায় টিকে থাকতে হবে। এই দুই ভূমিকা একে অপরের পরিপূরক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে একটা আরেকটাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব সংগঠনের রাজনৈতিক তৎপরতাকে গ্রাস করে ফেলছে, আর সেই শূন্যতা পূরণ করছে ক্ষমতাকেন্দ্রিক পৃষ্ঠপোষকতা, যা দীর্ঘমেয়াদে দলের রাজনৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করে।

    সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতার দায় শেষ পর্যন্ত বিএনপিকেই বহন করতে হবে। আবার দল হিসেবে তাদের প্রতিটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের প্রভাবও সরকারের ওপর পড়বে। এই পারস্পরিক নির্ভরতার কারণেই সংগঠনকে সক্রিয় রাখা নিছক দলীয় প্রয়োজন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনার স্থিতিশীলতার প্রশ্নও বটে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠন পুনর্গঠনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা সঠিক দিকের একটা পদক্ষেপ হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, ক্ষমতার কেন্দ্র ঘিরে তৈরি হওয়া পৃষ্ঠপোষকতার কাঠামো থেকে তৃণমূলকে সত্যিকার অর্থে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জনসম্পৃক্ততার দিকে ফিরিয়ে আনা কতটা সম্ভব হবে।

    শেষ কথা

    বিএনপি সরকারে মিশে যাচ্ছে কি না, এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর দেওয়ার সময় এখনো আসেনি। ছয় মাস একটা সরকারের রাজনৈতিক চরিত্র নির্ধারণের জন্য যথেষ্ট সময় নয়। তবে এই সময়ের মধ্যে যে প্রবণতাগুলো দৃশ্যমান হয়েছে—সাংগঠনিক স্থবিরতা, সংস্কারে ধীরগতি, নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন, আর ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির উত্থান—সেগুলো উপেক্ষা করার মতো নয়। একটা রাজনৈতিক দল যখন দীর্ঘ সংগ্রামের পর ক্ষমতায় আসে, তখন তার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় ক্ষমতা ধরে রাখায় নয়, বরং ক্ষমতার মধ্যেও নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও জনসম্পৃক্ততা অক্ষুণ্ণ রাখায়।

    এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পথ জটিল নয়, তবে সহজও নয়। এর জন্য প্রয়োজন সংগঠনকে রাষ্ট্রযন্ত্র থেকে স্পষ্টভাবে পৃথক রাখার সচেতন উদ্যোগ, পৃষ্ঠপোষকতার বদলে প্রকৃত জনসম্পৃক্ততামূলক রাজনীতিতে ফেরা, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, নিজেদের প্রতিশ্রুতি ও অতীত সমালোচনার মানদণ্ডে নিজেদের কর্মকাণ্ডকে যাচাই করার সাহস। সংস্কারের গতি বাড়ানো, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, আর সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে সত্যিকার অর্থে সক্রিয় করা—এই তিনটি কাজেই বিএনপির আগামী দিনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।

    বিএনপির সামনে এখন ঠিক এই পরীক্ষাই দাঁড়িয়ে আছে। আগামী দিনগুলোতে দলটি এই পরীক্ষায় কীভাবে সাড়া দেয়, তার ওপর নির্ভর করবে শুধু তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের গতিপথও। ক্ষমতা কোনো দলকে চিরস্থায়ীভাবে শক্তিশালী করে না—বরং ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহৃত হয়, সংগঠন কীভাবে ক্ষমতার আকর্ষণ থেকে নিজেকে রক্ষা করে, তার ওপরই নির্ভর করে একটা দলের দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক অস্তিত্ব। ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে, যে দল ক্ষমতার মোহে নিজের সাংগঠনিক ভিত্তি ভুলে যায়, সময় এলে সেই ভুলের মূল্য তাকেই চড়া দামে দিতে হয়। বিএনপি এই শিক্ষা কতটা আত্মস্থ করতে পারবে, আগামী দিনগুলোই তার উত্তর দেবে।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    বাংলাদেশ

    আগামীকাল রাজধানীতে চালু হচ্ছে বিআরটিসির ‘মহিলা বাস’, চালক-কন্ডাক্টর নারী

    আগস্ট 17, 2026
    বাংলাদেশ

    পাঁচ বছর মেয়াদি ট্রেড লাইসেন্সের দাবি ব্যবসায়ীদের

    আগস্ট 17, 2026
    বাংলাদেশ

    দেশীয় কয়লায় মিটবে আমদানির ৭৫% চাহিদা, নতুন পরিকল্পনা সরকারের

    আগস্ট 17, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.