দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পূর্ণাঙ্গ কমিশন পেল দুর্নীতি দমন কমিশন। সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান করে নতুন কমিশন গঠন করেছে সরকার। তার সঙ্গে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন ড. জাহাঙ্গীর আলম এবং ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।
সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ৬(১) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে এই তিনজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুদকের চেয়ারম্যান পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে আপিল বিভাগের বিচারপতির সমমান পাবেন। অন্যদিকে দুই কমিশনারের মর্যাদা হবে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের সমান।
এই নিয়োগের মধ্য দিয়ে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা নেতৃত্বশূন্যতার অবসান হলো। চলতি বছরের ৩ মার্চ তৎকালীন চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন পদত্যাগ করেন। তার সঙ্গে একই দিনে সরে দাঁড়ান কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহসান ফরিদও। রাষ্ট্রপতি তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পরপরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি করে।
এরপর থেকেই নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২২ জুন কমিশনার পদে প্রার্থী বাছাই ও সুপারিশের জন্য একটি পৃথক বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতি চূড়ান্তভাবে কমিশনার নিয়োগ দিয়ে থাকেন। কমিশনাররা নির্দিষ্ট মেয়াদে পূর্ণকালীন ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করেন, যা প্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিকতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দুর্নীতি দমন কমিশন একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত সাংবিধানিক সংস্থা। দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নির্দিষ্ট দুর্নীতি ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত করাই এর মূল দায়িত্ব। দীর্ঘদিন স্থায়ী নেতৃত্ব না থাকায় সংস্থাটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও তদন্ত প্রক্রিয়া কার্যত থমকে ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন কমিশন গঠনের ফলে সেই অচলাবস্থা কাটবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তবে নতুন নেতৃত্বের সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। বিচারাধীন দুর্নীতির মামলাগুলোর গতি বাড়ানো, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অভিযোগের নিষ্পত্তি এবং প্রতিষ্ঠানটির তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই হবে নতুন কমিশনের অন্যতম প্রধান কাজ। পাশাপাশি সংস্থার স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে জনআস্থা পুনরুদ্ধার করাও একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু নিয়োগ দিয়েই সংকট কাটবে না। কমিশনের কার্যকারিতা নির্ভর করবে তদন্তে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর। দুর্নীতি দমনে দৃশ্যমান ফলাফল দেখাতে না পারলে নতুন নেতৃত্বও পূর্বের মতোই সমালোচনার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

