পর্যটন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানো, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, দক্ষ জনবল তৈরি ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানসহ একাধিক বিষয়ে সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।
গতকাল বুধবার মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় এক বৈঠকে মিলিত হন বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং মালয়েশিয়ার পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী তুয়ান চিয়ু চুন ম্যান। বৈঠকে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় মূল গুরুত্ব পায় দুই দেশের পর্যটকদের জন্য আরও বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তৈরির বিষয়টি। পাশাপাশি নতুন নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচলের সংখ্যা ও ফ্রিকোয়েন্সি বৃদ্ধি, জনবলের দক্ষতা ও সক্ষমতা উন্নয়ন এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণসহ প্রি-ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও কথা হয় উভয় পক্ষের মধ্যে। এ ছাড়া পর্যটন খাতে একে অপরের সফল অভিজ্ঞতা ও মডেল ভাগাভাগি করে নেওয়ার প্রসঙ্গও আলোচনায় উঠে আসে।
আতিথেয়তা বা হসপিটালিটি খাতে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বিকাশের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয় দুই পক্ষ। বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসে, মালয়েশিয়ার পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পে দক্ষ জনবলের যে চাহিদা রয়েছে, তা পূরণে যোগ্য বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ কীভাবে আরও বাড়ানো যায়।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ একমত হন যে, পর্যটন খাতের উন্নয়ন, মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে দুই দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও গভীর করা প্রয়োজন। এই ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পর্যটন ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

