দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গ্রেড-১০ থেকে গ্রেড-২০ পর্যায়ের কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতা বাড়িয়েছে সরকার। কর্মচারীদের গ্রেড ও চাকরির মেয়াদ বিবেচনায় নতুন হার ঠিক করা হয়েছে। এই হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ২ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। ১৭ সেপ্টেম্বর তা বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে ২০১৮ সালের ২০ আগস্ট নির্ধারিত ঝুঁকি ভাতার আগের হার সংশোধন করা হয়েছে।
নতুন হারে গ্রেড ও চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী ভাতার পরিমাণ আলাদা। গ্রেড-১০-এর কর্মচারীরা পাঁচ বছর বা তার কম চাকরির মেয়াদে মাসে ৩ হাজার ২৪০ টাকা পাবেন। আগে এই হার ছিল ২ হাজার ৭০০ টাকা। অর্থাৎ ভাতা বেড়েছে ৫৪০ টাকা। গ্রেড-১১-এর নতুন ভাতা ২ হাজার ৬৪০ টাকা এবং গ্রেড-১২-এর ২ হাজার ৫২০ টাকা। গ্রেড-১৩-এর কর্মচারীরা পাঁচ বছর বা তার কম চাকরির মেয়াদে পাবেন ২ হাজার ২৮০ টাকা।
গ্রেড-১৪ থেকে গ্রেড-১৮ পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্যও চাকরির মেয়াদভিত্তিক হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই পাঁচ গ্রেডে ভাতার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা নিচে দেওয়া হলো।
গ্রেড-১৪: ২ হাজার ১৬০ থেকে ৪ হাজার ৫৬০ টাকা।
গ্রেড-১৫: ২ হাজার ৪০ থেকে ৪ হাজার ৮০ টাকা।
গ্রেড-১৬: ১ হাজার ৯২০ থেকে ৩ হাজার ৮৪০ টাকা।
গ্রেড-১৭: ১ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা।
গ্রেড-১৮: ১ হাজার ৬৮০ থেকে ৩ হাজার ৩৬০ টাকা।
গ্রেড-১৯-এর কর্মচারীরা চাকরির মেয়াদভেদে ১ হাজার ৫৬০ থেকে ৩ হাজার ২৪০ টাকা পাবেন। গ্রেড-২০-এর ক্ষেত্রে এই অঙ্ক ১ হাজার ৪৪০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১২০ টাকা।
প্রথমত, ঘোষণাটি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। নতুন হার চালু হবে ২০২৮ সালের জানুয়ারিতে। ফলে সিদ্ধান্তটি বর্তমানের চেয়ে ভবিষ্যৎ বাজেট ও বেতন কাঠামোর সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।
দ্বিতীয়ত, ২০১৮ সালের পর এই ভাতা সংশোধন হলো। এই সময়ে নিত্যপণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে। ভাতা বৃদ্ধিকে সেই প্রেক্ষাপটে দেখা যেতে পারে।
তৃতীয়ত, দুদকের কর্মীরা দুর্নীতির তদন্ত ও অনুসন্ধানের মতো স্পর্শকাতর কাজে যুক্ত থাকেন। এসব কাজে চাপ ও ঝুঁকি থাকে বলেই আলাদা ভাতার ব্যবস্থা। তবে প্রজ্ঞাপনে বৃদ্ধির নির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।
সবশেষে, এই সিদ্ধান্ত শুধু গ্রেড-১০ থেকে গ্রেড-২০ পর্যায়ের কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভাতা নিয়ে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।

