দেশজুড়ে বৃষ্টির যে ধারা চলছে, তা এখনই থামছে না। বরং আগামী পাঁচ দিনও বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে, আবার কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাব এবং ঝাড়খণ্ড ও এর কাছাকাছি বিহার এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপই এই বৃষ্টিপাতের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকাশ মেঘলা থাকা, দমকা হাওয়া এবং দফায় দফায় বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুকের দেওয়া পূর্বাভাসে আগামী পাঁচ দিনের আবহাওয়ার এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকায়ও অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
শুধু সাধারণ বৃষ্টিই নয়, দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। ফলে যেসব এলাকায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে, সেখানে জলাবদ্ধতা বা স্বাভাবিক চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন দেখা দিতে পারে।
এই সময়ে দিনের পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাতেও বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার পর থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টাতেও বৃষ্টির প্রবণতা কমার সম্ভাবনা নেই। এ সময়ে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এ ছাড়া রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকাতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।
তবে এ সময়ে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসেও একই ধরনের আবহাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু এলাকাতেও অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
দিন ও রাতের তাপমাত্রায় এ সময় বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
শুধু সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত নয়, শনিবার ও রোববারও একই ধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।
এই দুই দিনে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু কিছু এলাকাতেও বৃষ্টিপাত হতে পারে।
কিছু এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। অর্থাৎ আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একটানা বৃষ্টি না হলেও বিরতি দিয়ে বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির পেছনে মূলত মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং স্থল নিম্নচাপের প্রভাব কাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ুর প্রভাব থাকায় সেখান থেকে প্রচুর জলীয়বাষ্প দেশের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করছে। অন্যদিকে ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন বিহারে অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপও বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করছে।
এই দুই প্রভাব একসঙ্গে থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেঘ তৈরি ও বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতো অপেক্ষাকৃত বেশি বৃষ্টিপ্রবণ এলাকায় এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে।
বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকায় দিনের গরম কিছুটা কম অনুভূত হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পূর্বাভাস নেই। আগামী কয়েক দিনে কোথাও বৃষ্টি বাড়তে পারে, আবার কোথাও সাময়িক বিরতির পর বৃষ্টি নামতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ দিনে দেশের সামগ্রিক বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে অধিকাংশ অঞ্চলে তাপমাত্রার বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনাও নেই।
ফলে আগামী কয়েক দিন দেশের আবহাওয়া অনেকটাই বর্ষাকেন্দ্রিক থাকবে। বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন। বিশেষ করে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকা এলাকাগুলোতে স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

