দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১৬ ডিসেম্বর চালু হচ্ছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল। বিজয় দিবসে এই সফট ওপেনিংয়ের মাধ্যমে যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত হবে দেশের সবচেয়ে বড় এই বিমানবন্দর অবকাঠামো। আজ রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পরই এই ঘোষণা দেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। পাশাপাশি তিনি জানান, আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং বিমানের বহরে ১০টি লিজকৃত উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
থার্ড টার্মিনালের আয়তন ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার। এটি চালু হলে বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়বে ব্যাপকভাবে, বার্ষিক অতিরিক্ত ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী এবং প্রায় ৯ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিং সম্ভব হবে। টার্মিনালটি প্রায় দেড় বছর ধরে পরিচালনা ও রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে বন্ধ ছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর জাপানের সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করেন।
জাপানের কনসোর্টিয়াম, যার মধ্যে রয়েছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিটোমো কর্পোরেশন, নিপ্পন কোয়েই এবং নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্পোরেশন, শুধু থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা করবে। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। মন্ত্রী মিল্লাত জানান, টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানি কোম্পানির সঙ্গে সেপ্টেম্বরে চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বাড়াতেও বড় পরিকল্পনা নিচ্ছে সরকার। মন্ত্রী জানিয়েছেন, বিমানের বহরে শিগগিরই ১০টি লিজকৃত উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। এর আগে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এয়ারবাসের কাছ থেকে ৪টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি এবং ৬টি এ৩২১নিও ন্যারোবডি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব রয়েছে। নতুন বিমানগুলো যুক্ত হলে বিমানের সক্ষমতা বাড়বে এবং নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু করতে সহায়তা করবে।
ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী। তবে এই ফ্লাইট চালু হতে এখনও সময় লাগতে পারে। বাংলাদেশকে প্রথমে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইসিএও) নিরাপত্তা মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে। ২০২৬ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে প্রাক-অডিট এবং ২০২৭ সালে চূড়ান্ত অডিট অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৯৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করেছিল। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের মতে, ২০২৮ সালের আগে এই ফ্লাইট চালু হওয়ার সম্ভাবনা কম।
মন্ত্রী মিল্লাত আরও জানান, মন্ত্রণালয় ও অধীন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করাকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন এবং কাজের সুবিধার্থে সপ্তাহে একদিন সিভিল অ্যাভিয়েশন বা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে অফিস করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের সফট ওপেনিংয়ের মধ্য দিয়ে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতে। থার্ড টার্মিনাল চালু হলে শুধু যাত্রীসেবার মানই বাড়বে না, দেশের অর্থনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

