রংপুর নগরীর দাসপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় ওঠা বিভিন্ন তথ্য ও বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশের নতুন কমিশনার মাহবুবুর রশিদ।
শুক্রবার নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
মাহবুবুর রশিদ বলেন, একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। এ মামলা নিয়ে সারা দেশে নানা ধরনের আলোচনা চলছে। তাই এই মুহূর্তে ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করা আগাম হয়ে যাবে। মূলত মামলার বিষয়ে বিস্তারিত জানতেই তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘মামলা-সংক্রান্ত সব তথ্যই আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।’

চার খুনের ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে যেসব কথা উঠেছে, সেগুলোও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান আরপিএমপি কমিশনার। তিনি বলেন, সব তথ্য বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাইয়ের পর সঠিকভাবে অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হবে, যাতে মামলায় সুবিচার নিশ্চিত করা যায়।
ঘটনাস্থলের আলামত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুর রশিদ বলেন, তিনিও এমন কথা শুনেছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আলামত ধুয়ে ফেলার কোনো কারণও নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা সব আলামত পুলিশের কাছে নিরাপদে সংরক্ষিত রয়েছে। তারপরও আলামত ধুয়ে ফেলার অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
মামলার তদন্ত কতদূর এগিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মামলাটি চলমান প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে এবং তদন্তও অব্যাহত আছে। নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রথমবারের মতো ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে আগের কমিশনার তাঁকে সময়ে সময়ে অবহিত করেছেন জানিয়ে মাহবুবুর রশিদ বলেন, আপাতত তিনি সেই অবস্থানেই থাকতে চান। তদন্তে কোনো সূত্র বা ক্লু পাওয়া গেলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে।
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর দাসপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)।
এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঘটনার কারণ, আলামত সংরক্ষণ এবং পুলিশের তদন্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। নতুন কমিশনারের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তদন্তে এসব বিষয়ই গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

