বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান সদস্যসংখ্যা এক লাখ ৯৬ হাজার ১২৬। এত বড় একটি বাহিনীতে নারীর উপস্থিতি একেবারে নেই, তা নয়। কিন্তু পদমর্যাদার যত ওপরে যাওয়া যায়, নারীর অংশগ্রহণ ততই সংকুচিত হয়ে আসে। পুলিশের শীর্ষ তিনটি পদে দায়িত্ব পালনকারী ১০০ কর্মকর্তার মধ্যে নারী আছেন মাত্র একজন। পুরো বাহিনীতে নারী সদস্যের হারও ১০ শতাংশের নিচে—৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য বলছে, বাহিনীর এক লাখ ৯৬ হাজার ১২৬ সদস্যের মধ্যে পুরুষ এক লাখ ৭৮ হাজার ২১৩ জন এবং নারী ১৭ হাজার ৯১৩ জন। অর্থাৎ, প্রায় দুই লাখ সদস্যের এই বাহিনীতে নারীর সংখ্যা মোট সদস্যের তুলনায় খুবই সীমিত।
তবে সংখ্যার এই চিত্রের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে পদভিত্তিক ব্যবধান। কারণ একজন নারী পুলিশ সদস্যের বাহিনীতে প্রবেশের সুযোগ থাকা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের উচ্চপর্যায়ে তাঁর উপস্থিতি—দুটি বিষয় এক নয়। বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, পুলিশের নিচের ও মধ্যম পর্যায়ে কিছুটা নারী উপস্থিতি থাকলেও শীর্ষ নেতৃত্বে সেই প্রতিনিধিত্ব অত্যন্ত দুর্বল।
শীর্ষ পর্যায়ে বড় ব্যবধান
পুলিশের মহাপরিদর্শক পদে বর্তমানে একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে গ্রেড-১ পর্যায়ে রয়েছেন দুজন এবং গ্রেড-২ পর্যায়ে রয়েছেন ১৬ জন। এর বাইরে চলতি দায়িত্বে আছেন আরও একজন। উপমহাপরিদর্শক পদে গ্রেড-৩ পর্যায়ে রয়েছেন ৭৮ কর্মকর্তা, যাদের মধ্যে নারী মাত্র একজন। এই পদে অতিরিক্ত দায়িত্বের বাইরে বিশেষ ব্যবস্থায় আরও দুজন পুরুষ সদস্য রয়েছেন।
সব মিলিয়ে পুলিশের শীর্ষ তিন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী ১০০ কর্মকর্তার মধ্যে নারী মাত্র একজন। অর্থাৎ, বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ে নারীর প্রতিনিধিত্ব ১ শতাংশেরও কম।
এই পরিসংখ্যান একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনে—পুলিশে নারীদের প্রবেশের সুযোগ তৈরি হলেও তাঁরা কি সমানভাবে নেতৃত্বের পর্যায়ে উঠে আসতে পারছেন? বর্তমান চিত্র অন্তত সেই প্রশ্নের সহজ উত্তর দেয় না।
মাঝের স্তরে কিছুটা বেশি নারী
বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া সহকারী পুলিশ সুপার থেকে তার ওপরের বিভিন্ন পদে বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তার সংখ্যা দুই হাজার ৬৪৭। এর মধ্যে নারী ৩০৩ জন। অর্থাৎ এই স্তরে নারীর অংশগ্রহণ ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
অন্যদিকে কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পর্যন্ত বিভিন্ন পদে রয়েছেন এক লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৯ সদস্য। এ পর্যায়ে নারী সদস্যের সংখ্যা ১৭ হাজার ৬১০, যা মোটের ৯ দশমিক ১ শতাংশ।
পদভেদে হিসাব করলে পার্থক্য আরও পরিষ্কার হয়। অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক পদে ১৬৩ কর্মকর্তার মধ্যে নারী ১৭ জন। চলতি দায়িত্বে থাকা ১০ জনের মধ্যে নারী একজন। বিশেষ ব্যবস্থায় থাকা ১০৩ জনের মধ্যে নারী ১৫ জন।
পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ৪৬২ জনের মধ্যে নারী ৫৪ জন। একই পদে বিশেষ ব্যবস্থায় থাকা ৭১ কর্মকর্তার মধ্যে নারী ২১ জন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে ৮৭১ কর্মকর্তার মধ্যে নারী ১৩৯ জন। সহকারী পুলিশ সুপার পদে ৮৪৬ জনের মধ্যে নারী ৫৫ জন।
অর্থাৎ, নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি একেবারে অনুপস্থিত নয়। বরং কিছু পদে তাঁদের সংখ্যা দৃশ্যমান। কিন্তু বাহিনীর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী স্তরে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ব্যবধানটি আবারও প্রকট হয়ে ওঠে।
চারটি পদে একজন নারীও নেই
পুলিশের নিচের ও মধ্যম পর্যায়েও এমন কয়েকটি পদ রয়েছে, যেখানে বর্তমানে কোনো নারী সদস্য নেই। পরিদর্শক পর্যায়ের দুটি পদ, প্রযুক্তিগত উপপরিদর্শক এবং সশস্ত্র উপপরিদর্শক—এই চার পদে মোট পাঁচ হাজার ১৮১ সদস্য থাকলেও নারী নেই একজনও।
পরিদর্শক নিরস্ত্র পদে চার হাজার ৭১৯ জনের মধ্যে নারী ১২৮ জন। কিন্তু পরিদর্শক প্রযুক্তিগত পদে কর্মরত ৯৮৪ জন এবং পরিদর্শক সশস্ত্র পদে ৮৩৬ জনের মধ্যে কোনো নারী নেই।
উপপরিদর্শক নিরস্ত্র পদে ১৯ হাজার ২০৪ সদস্যের মধ্যে নারী ৯৯৮ জন। সার্জেন্ট পদে দুই হাজার ২৫ জনের মধ্যে নারী ৯২ জন। এর বাইরে বর্তমানে ৮৫ জন শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট রয়েছেন।
প্রযুক্তিগত উপপরিদর্শক পদে ৪৪৬ জন এবং সশস্ত্র উপপরিদর্শক পদে দুই হাজার ৯১৫ জন সদস্য থাকলেও এই দুই ক্ষেত্রেও কোনো নারী নেই।
সহকারী উপপরিদর্শক নিরস্ত্র পদে ২০ হাজার ৬৩৮ জনের মধ্যে নারী এক হাজার ৪২৭ জন। সহকারী প্রযুক্তিগত উপপরিদর্শক পদে দুই হাজার সদস্যের মধ্যে নারী ২১ জন। সহকারী উপপরিদর্শক সশস্ত্র পদে ছয় হাজার ৮৫৭ জনের মধ্যে নারী ১৮৯ জন।
নায়েক পদে সাত হাজার ২০ জন সদস্যের মধ্যে নারী ৫২৭ জন। আর পুলিশের সবচেয়ে বড় জনবলভিত্তিক স্তর কনস্টেবল পদে এক লাখ ২৫ হাজার ৭৫০ জনের মধ্যে নারী ১৪ হাজার ২২৮ জন।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট—পুলিশে নারীর অংশগ্রহণের বড় অংশই এখনো নিচের দিকের পদগুলোতে কেন্দ্রীভূত। দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা যত বাড়ে, নারীর উপস্থিতি তত কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
৫ আগস্টের পর আরও বদলে যায় চিত্র
নারী কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ৫ আগস্টের পট পরিবর্তনের পর অন্য অনেক কর্মকর্তার সঙ্গে কয়েকজন নারী পুলিশ কর্মকর্তাকেও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে উপমহাপরিদর্শক ও অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক পর্যায়ের কর্মকর্তাও ছিলেন।
সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাত নারী অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।
ফলে উচ্চপর্যায়ে নারী কর্মকর্তাদের যে উপস্থিতি ছিল, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে তার ওপরও প্রভাব পড়েছে। তবে শুধু সাম্প্রতিক পরিবর্তন দিয়ে দীর্ঘদিনের এই বৈষম্যকে ব্যাখ্যা করা যায় না। পুলিশের বিভিন্ন স্তরে নারীর অংশগ্রহণের সামগ্রিক ইতিহাস দেখলে বোঝা যায়, সমস্যাটি অনেক পুরোনো।
পুলিশের পোশাকে নারীর যাত্রা শুরু ১৯৭৪ সালে
বাংলাদেশ পুলিশে নারীর আনুষ্ঠানিক প্রবেশ শুরু হয় ১৯৭৪ সালে। সে বছর বিশেষ শাখায় ১৪ নারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে সাতজন ছিলেন উপপরিদর্শক এবং সাতজন কনস্টেবল।
এর দুই বছর পর, ১৯৭৬ সালে ঢাকায় প্রথমবারের মতো ইউনিফর্মধারী নারী পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই দফায় ১৫ নারী সদস্য বাহিনীতে যোগ দেন।
পুলিশের নেতৃত্ব পর্যায়ে নারীর প্রবেশ অবশ্য আরও পরে। ১৯৮৬ সালে পঞ্চম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে নারী নিয়োগ দেওয়া হয়। ফাতেমা বেগম ছিলেন দেশের প্রথম নারী বিসিএস পুলিশ ক্যাডার কর্মকর্তা। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম নারী অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হন।
২০১৩ সালের অক্টোবরে তাঁকে উপমহাপরিদর্শক থেকে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে উন্নীত করা হয়। পরে তিনি পুলিশ সদরদপ্তরে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হিসেবে অবসর নেন।
নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আরেকটি উল্লেখযোগ্য নাম রৌশন আরা বেগম। ২০১৮ সালের ৬ নভেম্বর তিনি অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক পদে উন্নীত হন। তবে ২০১৯ সালে কঙ্গোয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।
অর্থাৎ, পুলিশের নেতৃত্বে নারীর পথচলা নতুন নয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শীর্ষ পর্যায়ে নারীর উপস্থিতি এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।
কোটা ছিল, এখন নেই
পুলিশে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য দীর্ঘ সময় ধরে কোটা ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত নিয়োগে কোটা পদ্ধতিও চালু ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি বাতিল হয়ে যায়।
২০১১ সালে জনপ্রশাসনে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বাংলাদেশবিষয়ক একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পুলিশে সহকারী পুলিশ সুপার থেকে তদূর্ধ্ব পর্যায়ে নারীদের জন্য ১০ শতাংশ এবং কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পর্যায়ে ১৫ শতাংশ নিয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এরপর ২০১৬ সালে তৎকালীন সংসদে জানানো হয়েছিল, নারী উপপরিদর্শক নিয়োগে ১০ শতাংশ কোটা অনুসরণ করা হচ্ছে।
এই ধারাবাহিকতা থেকে একটি বিষয় বোঝা যায়—নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে শুধু উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ওপর নির্ভর করলেই কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে না। কারণ চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ থাকলেও সামাজিক বাস্তবতা, কাজের পরিবেশ, পরিবার ও নিরাপত্তাবিষয়ক ধারণা নারীদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
কেন নারীরা পুলিশে কম আসছেন
ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও আন্তর্জাতিক নারী পুলিশ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সমন্বয়ক শামীমা পারভীনের মতে, নারী উপপরিদর্শকের সংখ্যা কম হওয়ায় প্রতিটি থানায় সব ধরনের তদন্তের দায়িত্বে নারী কর্মকর্তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রতিটি থানায় নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সেবা ডেস্ক রয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারেন।
নারী সদস্যের সংখ্যা কম থাকার কারণ হিসেবে তিনি কোটা পদ্ধতি না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, কাজের ধরনসহ নানা কারণে নারীরা এই পেশায় আসতে পারছেন না বা আসছেন না। এ অবস্থায় নারী সদস্যের সংখ্যা বাড়াতে বিশেষ নিয়োগের কথাও ভাবা যেতে পারে।
এই বক্তব্য থেকে পুলিশের জন্য একটি বড় বাস্তবতা সামনে আসে। নারীর অংশগ্রহণ শুধু নিয়োগসংখ্যার প্রশ্ন নয়; কর্মপরিবেশ, দায়িত্বের ধরন, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং পেশাগত অগ্রগতির সুযোগ—সবকিছুর সঙ্গে এটি জড়িত।
সামাজিক মানসিকতাও বড় বাধা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. তানিয়া হকের মতে, বাংলাদেশের সামাজিক কাঠামোয় নারীদের নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্বকে দীর্ঘদিন পুরুষের সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা বাহিনীতে নারীর অংশগ্রহণের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
তাঁর মতে, নিরাপত্তা খাতে নারীদের প্রবেশ দেরিতে হয়েছে এবং এখনও তাঁদের অংশগ্রহণ কম থাকার পেছনে সামাজিক মানসিকতার ভূমিকা রয়েছে। নারীদের কেবল নারী হিসেবে নয়, একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে সম্মান দেওয়া এবং পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো জরুরি। তাহলেই এ ধরনের পেশায় নারীর অংশগ্রহণ বাড়তে পারে।
পুলিশের সহকারী মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইনও মাঠ পর্যায়ের পদগুলোতে নারী সদস্যের ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, পুলিশে ক্যাডার কর্মকর্তার সংখ্যা আগের তুলনায় বাড়লেও মাঠ পর্যায়ে নারী সদস্য কম। দেশের সামাজিক কাঠামোর কারণেই হয়তো অনেক নারী এই পেশায় আসছেন না।
সংখ্যার বাইরে যে প্রশ্নটি থেকে যায়
বাংলাদেশ পুলিশে নারীর আনুষ্ঠানিক যাত্রার পাঁচ দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। ১৯৭৪ সালে মাত্র ১৪ জন নারী দিয়ে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, আজ তা ১৭ হাজার ৯১৩ জনে পৌঁছেছে। সংখ্যার বিচারে এটি অবশ্যই একটি বড় পরিবর্তন।
কিন্তু পুরো বাহিনীতে নারীর অংশগ্রহণ ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ হওয়া এবং শীর্ষ ১০০ কর্মকর্তার মধ্যে মাত্র একজন নারী থাকা দেখিয়ে দেয়, প্রবেশের সুযোগ আর নেতৃত্বে পৌঁছানোর সুযোগ এক বিষয় নয়।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, পুলিশের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে নারী কর্মকর্তার উপস্থিতি কেবল প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন নয়। নারী, শিশু ও পারিবারিক সহিংসতার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ, তদন্ত পরিচালনা এবং সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে নারী কর্মকর্তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে থানার পর্যায়ে নারী কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়লে অনেক ভুক্তভোগীর জন্য অভিযোগ জানানো ও সহযোগিতা চাওয়ার পরিবেশ আরও সহজ হতে পারে।
তাই পুলিশের নারী সদস্য বাড়ানোর আলোচনা শুধু কতজন নারী নিয়োগ পেলেন, সেই হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে সমস্যার পুরো চিত্র ধরা পড়বে না। নিয়োগ থেকে পদোন্নতি, মাঠপর্যায়ের দায়িত্ব থেকে নেতৃত্বের শীর্ষ স্তর—প্রতিটি ধাপে নারীদের জন্য কার্যকর সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
বর্তমান পরিসংখ্যান অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিয়েছে: বাংলাদেশ পুলিশের দরজা নারীদের জন্য খোলা থাকলেও নেতৃত্বের সর্বোচ্চ কক্ষ পর্যন্ত সেই পথ এখনও পুরোপুরি সমান হয়নি। ১৯৭৪ সালে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তার পরবর্তী ধাপ এখন শুধু নারী সদস্যের সংখ্যা বাড়ানো নয়; বরং তাঁদের এমন অবস্থানে পৌঁছে দেওয়া, যেখানে তাঁরা বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণেও সমানভাবে দৃশ্যমান থাকবেন।

