আজ ৩০ আগস্ট, বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। জাতিসংঘের ঘোষিত এই দিনটি প্রতি বছর বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দেয় জোরপূর্বক গুমের নির্মম বাস্তবতা এবং তার শিকার পরিবারগুলোর নিরন্তর কষ্টের কথা। বাংলাদেশেও দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করার পাশাপাশি তাদের স্বজনদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ও যন্ত্রণার কথা সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে।
এ বছরের দিবসটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অন্যরকম গুরুত্ব বহন করছে। গত কয়েক বছরে দেশে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগীদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য সামনে আসতে শুরু করেছে, একইসঙ্গে জোরালো হয়েছে দায়ীদের বিচারের দাবি। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে বাংলাদেশের স্বাক্ষর করার উদ্যোগ এবং বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা এই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জোরপূর্বক গুমকে একটি গুরুতর ও বৈশ্বিক মানবাধিকার সংকট হিসেবে বিবেচনা করে জাতিসংঘ বহু বছর ধরে এই দিনটি পালন করে আসছে। কোনো ব্যক্তিকে গুম করে তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য গোপন রাখা এবং তাকে আইনি সুরক্ষার আওতার বাইরে রাখা—এই দুই বিষয়কেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অন্যতম গুরুতর রূপ হিসেবে দেখা হয়। এ কারণেই দিবসটিতে রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব ও জবাবদিহিতার প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়।
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, ২০০৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ একটি আন্তর্জাতিক সনদ গ্রহণ করে, যার লক্ষ্য ছিল বিশ্বের সব মানুষকে জোরপূর্বক গুম থেকে সুরক্ষা দেওয়া। এরপর ধাপে ধাপে কার্যকর হয় সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক কনভেনশন। এই প্রক্রিয়ারই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট তারিখটিকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করা শুরু হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু প্রতীকী কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দিবসটির প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত আছে বাস্তব পরিবর্তনে। গুমের ঘটনাগুলোর স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক তদন্ত উদ্যোগগুলো একদিকে যেমন আশার সঞ্চার করছে, তেমনি এই প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান।

