বরিশাল নগরীর শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য প্রাথমিকভাবে ২০টি উন্মুক্ত খেলার মাঠ নির্মাণ ও সংরক্ষণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। এরই মধ্যে মাঠ নির্বাচনের কাজ শেষ করে প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
তালিকাভুক্ত মাঠগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে আলোচিত হয়ে উঠেছে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি জায়গা, যার আয়তন প্রায় ৬৯ শতাংশ। খাস জমি হিসেবে চিহ্নিত এই এলাকাটি নিয়ে সম্প্রতি বেশ জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, একটি ভূমিদস্যু চক্র জাল কাগজপত্র বানিয়ে জমিটির দখল নেয়, এরপর বায়নাসূত্রে বিএনপির কয়েকজন নেতার কাছে তা হস্তান্তরিত হয়। পরবর্তীতে প্লট বানিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিচু ওই জমি বালু ফেলে ভরাটও করা হচ্ছিল।
এই অনিয়ম সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে সামনে আসার পর প্রশাসন হস্তক্ষেপ করে ভরাটের কাজ থামিয়ে দেয়। এরপরই ওই জমিতে আশপাশের দুটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের জন্য খেলার মাঠ তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গতকাল শনিবার সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক সরেজমিনে জায়গাটি ঘুরে দেখেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবৈধ দখলদারদের মালিকানা বাতিল চেয়ে ইতোমধ্যে আদালতে মামলা করা হয়েছে এবং জনসাধারণের জন্য মাঠ তৈরির কাজে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
শুধু এই একটি জায়গাই নয়, নগরীর প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্যই আলাদা আলাদা মাঠ নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার স্কুল-কলেজ প্রাঙ্গণ, হাউজিং এলাকা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের খালি জায়গাকে এক্ষেত্রে বেছে নেওয়া হয়েছে খেলার মাঠ হিসেবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ৩০টি ওয়ার্ডের জন্য মোট ২০টি স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে, যেখানে কোনো অবৈধ দখলদার থাকলে তাদের দ্রুত উচ্ছেদের পরিকল্পনাও রয়েছে।
আর্থিক দিক থেকে দেখতে গেলে, এই মাঠগুলো খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে একটি প্রকল্প পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ ছাড় পেলেই বাস্তবে সংস্কার কাজ শুরু হবে।
সিটি করপোরেশনের শীর্ষ প্রশাসক জানিয়েছেন, তাদের মূল লক্ষ্য হলো এলাকাভিত্তিক এমন জায়গায় মাঠ তৈরি করা, যাতে একটি সড়কের দুই পাশে থাকা দুটি ওয়ার্ডের শিশুরাই একসঙ্গে সেই মাঠ ব্যবহার করতে পারে। পাশাপাশি কাছাকাছি এলাকায় খাস জমি পাওয়া গেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠের পরিবর্তে সেই খাস জমিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নগরায়ণের চাপে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসা খেলার মাঠ ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ শুধু শিশুদের শারীরিক বিকাশেই নয়, বরং অবৈধ ভূমিদখল রোধেও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

