দেশের দুর্গম সীমান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে থার্মাল ইমেজিং ও নাইট ভিশন সুবিধাসংবলিত ড্রোন ব্যবহারের বড় উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এই লক্ষ্যে সিলেটে চালু করা হয়েছে দেশের প্রথম ‘সীমান্ত স্কুল অব সারভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ নামের একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণকেন্দ্র।
আজ মঙ্গলবার সিলেটে বিজিবির সেক্টর সদর দপ্তরে এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। উদ্বোধন-পরবর্তী সময়ে তিনি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং ড্রোনের ব্যবহারিক প্রদর্শনী ও মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, যেসব সীমান্ত এলাকায় জনবল দিয়ে সরাসরি নজরদারি চালানো কঠিন হয়ে পড়ে, সেসব জায়গায় ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, বিশেষত নাইট ভিশন ও থার্মাল ইমেজিং সুবিধাযুক্ত ড্রোন ব্যবহার করা হবে। তার ভাষ্যমতে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে থাকা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্তকরণের পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং মানব পাচারের মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ চিহ্নিত করাও সহজ হবে।
তিনি আরও জানান, এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মূল উদ্দেশ্য হলো ড্রোন ও ডিজিটাল নজরদারি প্রযুক্তি পরিচালনায় দক্ষ জনবল গড়ে তোলা। ভবিষ্যতে সীমান্তের বিভিন্ন বর্ডার আউটপোস্ট, বিজিবি সদর দপ্তর এবং আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকেও সীমান্ত পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে বলে তিনি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিজিবির জন্য দেশেই ড্রোন সংযোজন ও নির্মাণের একটি উদ্যোগ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তার ভাষায়, বর্তমানে তারা নিজেরাই এসব ড্রোন সংযোজন ও নির্মাণের কাজ করছেন, আর ভবিষ্যতে এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা শিল্প হিসেবে গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি, যদিও সবচেয়ে উন্নত মানের সব ধরনের ড্রোন এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে আরও উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন এই কেন্দ্রে সংযুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।
শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা নয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলাতেও এসব ড্রোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ সরবরাহ ও উদ্ধার তৎপরতায় ড্রোন প্রযুক্তি বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং জানান, বিজিবি সদস্যরা ইতিমধ্যে এ ধরনের কাজে ড্রোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
আপাতত এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুধু বিজিবি সদস্যদের জন্যই পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তবে ভবিষ্যতে প্রয়োজন ও সুযোগ বিবেচনায় বেসামরিক জনগণকেও এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সবশেষে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পাশাপাশি এই সক্ষমতা দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রমেও কাজে লাগানো হবে।
সার্বিকভাবে এই উদ্যোগকে বিশ্লেষকরা দেখছেন সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভরতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে, যা দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় মানবসম্পদ-নির্ভর নজরদারির সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনেও দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

