নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করেছে সরকার। ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে নির্দিষ্ট হারে অর্থ পাওয়ার সুযোগ থাকছে এই ব্যবস্থায়।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় গতকাল এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে। পরিপত্র জারির দিন থেকেই নতুন এই প্রণোদনা ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় ব্যাটারিসহ ছাদে স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সর্বোচ্চ ব্যয় ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের পর্যালোচনা করা সাম্প্রতিক বাজারদর ও দরপত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এই ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
সৌরবিদ্যুতে বিনিয়োগকে আরও আকর্ষণীয় করতে সরকার উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত মূল্য যোগ করেছে। ফলে গ্রিডে সরবরাহ করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৫০ পয়সা।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের গড় খুচরা মূল্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৪০ পয়সা। নতুন ব্যবস্থায় কেউ যদি ৮ টাকার কম খরচে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেন, তাহলে উৎপাদন ব্যয় ও নির্ধারিত হারের মধ্যকার সাশ্রয়কে অতিরিক্ত মুনাফা হিসেবে রাখার সুযোগ পাবেন।
নেট মিটারিং নির্দেশিকা ২০২৫ অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে যারা ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করবেন এবং উৎপাদনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করবেন, তারা প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে অর্থ পাবেন। এই সুবিধা তিন বছর পর্যন্ত বহাল থাকবে এবং ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
তবে নির্ধারিত সময়সীমা অর্থাৎ ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির পর স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা এই বিশেষ প্রণোদনার আওতায় আসবে না।
প্রণোদনা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া গ্রাহকদের তথ্য সংরক্ষণ করবে বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। গ্রাহকরা জাতীয় গ্রিডে কত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছেন এবং গ্রিড থেকে কত বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন, তার হিসাবও রাখা হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের প্রাপ্য প্রণোদনার অর্থ পরিশোধের দায়িত্বও থাকবে এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর।
প্রণোদনার অর্থ সরাসরি গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে দেওয়া হবে। নগদ অর্থে এই অর্থ পরিশোধের সুযোগ থাকবে না।
সরকার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত সব ধরনের সরঞ্জামের মান নিয়েও কঠোর শর্ত দিয়েছে। সৌর প্যানেল, ব্যাটারি, বিদ্যুৎ রূপান্তরকারী যন্ত্র ও বিদ্যুৎ মাপার মিটারসহ সব সরঞ্জামকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত কারিগরি মান পূরণ করতে হবে।
এই কর্মসূচি নিয়ে নীতিগত নির্দেশনা বা কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন হলে বিদ্যুৎ বিভাগের একক সেবা কেন্দ্র অথবা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন আগ্রহী গ্রাহকেরা।

