দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, ঘুষ নিয়ে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে অনিয়মের অভিযোগে পুলিশের সাত কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অপসারণ ও বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই আদেশ দেওয়া হয়।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সাবেক যুগ্ম কমিশনার সঞ্চিত কুমার রায়। তিনি ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। একইভাবে ডিএমপির সাবেক উপ-কমিশনার মানস কুমার পোদ্দার ২০২৪ সালের ১৮ অক্টোবর থেকে কর্মস্থলে যাননি। রংপুর জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. শাহজাহান ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে সুপারনিউমারারি পদোন্নতিপ্রাপ্ত) হাফিজ আল ফারুক ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে না থাকায় তাদের সবাইকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া নেত্রকোনা ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তিনি এক ব্যক্তিকে এসআই পদে চাকরি দেওয়ার শর্তে ১৭ লাখ টাকা দাবি করেন এবং নিজের অ্যাকাউন্টে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু ওই ব্যক্তির চাকরি না হওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে তিনি দেননি। পরে ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে তদন্তে তার অপরাধ প্রমাণিত হয়। তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মতামত ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম ২০২৫ সালের ৯ মার্চ থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার স্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। অন্যদিকে পুলিশ স্টাফ কলেজের এএসপি মো. হাবিবুল্লাহ দালাল ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দেননি। তিনি অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী স্ত্রীর কাছে চলে যান। তাদের অননুমোদিত অনুপস্থিতি ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় বিভাগীয় মামলায় অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পিএসসির মতামত ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর তাদের বরখাস্ত করা হয়।
পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে এই কঠোর পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে। ঘুষ, অনিয়ম ও দীর্ঘদিনের অনুপস্থিতির মতো অভিযোগে সাত কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর বার্তা দিল প্রশাসন।

