শতভাগ ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর লক্ষ্যে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের সব পাসপোর্ট অফিস ও বিদেশের মিশনগুলোয় মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। বর্তমানে আবেদনকারীদের ৯৯ শতাংশই ই-পাসপোর্ট নিচ্ছেন, যা এমআরপি বন্ধের পথ সুগম করেছে। এক যুগের বেশি সময় ধরে চলা এমআরপি যুগের অবসান ঘটাতে চলতি বছরই শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার।
গত ২৩ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভায় এমআরপি সেবা বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সভায় জানানো হয়, বিদেশের বাংলাদেশ মিশনগুলোয় ই-পাসপোর্ট নেওয়ার হার এখন ৯৯ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে পুরোনো এমআরপি যন্ত্রপাতি সচল রাখা ও মেরামত করা ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে পড়েছে। তাই নতুন করে আর এমআরপি চালু রাখার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে পাসপোর্ট অধিদপ্তর।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহে ১ লাখ ৭ হাজার ১টি ই-পাসপোর্ট ইস্যু হয়েছে, অন্যদিকে ইস্যু হয়েছে মাত্র একটি এমআরপি। এমআরপিটিও ইস্যু হয়েছে বিদেশের একটি কনস্যুলেট থেকে। অর্থাৎ আবেদনের প্রায় ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশই এখন ই-পাসপোর্ট। এ অবস্থায় এমআরপি ব্যবস্থা চালু রাখার কোনো অর্থনৈতিক বা কারিগরি যুক্তি নেই।
এমআরপি বন্ধের এই সিদ্ধান্ত অবশ্য একদিনে আসেনি। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে দেশে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে এমআরপির ব্যবহার কমতে থাকে। তবে প্রবাসীদের কথা বিবেচনায় রেখে সাময়িকভাবে এমআরপি সেবা চালু রাখা হয়েছিল। কারণ অনেক প্রবাসীর এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যে অমিল ছিল, আবার কারও এনআইডিই ছিল না। তাদের ই-পাসপোর্ট নিতে সমস্যা হলে ভিসা ও আকামা নবায়নে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এই সমস্যা সমাধানে এনআইডি ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যে অমিল থাকলেও ই-পাসপোর্ট নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ই-পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনে এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন সনদ ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
মনে রাখবেন, যাদের হাতে বৈধ এমআরপি রয়েছে, তারা এখনো সেই পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হলে বা নতুন পাসপোর্ট নিতে চাইলে তাদের আবেদন করতে হবে ই-পাসপোর্টের জন্য। নতুন করে আর এমআরপি ইস্যু করা হবে না। যাদের এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যে অমিল রয়েছে, তারা প্রথমে তথ্য সংশোধন করে তারপর আবেদন করবেন। নবায়নের ক্ষেত্রে এনআইডির তথ্যের সঙ্গে পাসপোর্টের তথ্যের হুবহু মিল থাকতে হবে।
বিদেশের মিশনগুলোয় এই রূপান্তর কাজ সহজ করতে ইতিমধ্যে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবে অতিরিক্ত আটটি মোবাইল এনরোলমেন্ট কিট (এমইকে) পাঠানো হচ্ছে, যাতে দ্রুত ই-পাসপোর্ট সেবা দেওয়া যায়। ভারতের দিল্লি ও কলকাতা মিশনেও ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর প্রক্রিয়া চলছে।
সবমিলিয়ে, বাংলাদেশ এখন পাসপোর্ট সেবার একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ই-পাসপোর্টের চিপ-সংবলিত প্রযুক্তি এবং উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আগামী বছরের শুরু থেকে পুরোপুরি ই-পাসপোর্টের দুনিয়ায় পা রাখবে বাংলাদেশ, যা প্রবাসী ও দেশের মানুষের জন্য দ্রুত ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করবে।

