সরকারি প্রশাসনে দুর্নীতি কমাতে দেশের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর সচিবদের প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সচিবদের এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি। বিকেল সাড়ে ৪টায় শুরু হওয়া বৈঠকটি শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টার দিকে। এতে অন্তত ৬১ জন সচিব অংশ নেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব। প্রস্তাবটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব গ্রহণ করেন। এখন দুদককে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। এরপর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।
এসব কমিটিকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে দুদক। এর মাধ্যমে সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যক্রমে দুর্নীতির ঝুঁকি চিহ্নিত করা, অনিয়মের বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রশাসনে দুর্নীতি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে জনপরিসরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই সচিবদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সরকারি প্রশাসনে দুর্নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। বৈঠকে কয়েকজন সচিবও প্রশাসনে দুর্নীতি নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ধারণার বিষয়টি স্বীকার করেন এবং এ ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে নিয়োগপ্রক্রিয়া দ্রুত করার নির্দেশ দেওয়া হলেও পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
চলমান বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারি কার্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের বিষয়েও সচিবদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের অগ্রগতি তদারক করতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি বলেন, বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় আরও কার্যকর করা, প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানো এবং সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলোতে সরাসরি নজর দেওয়া।
সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের উদ্যোগকে প্রশাসনে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর একটি প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দুদকের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার পর এসব কমিটির কাঠামো ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

