দিনাজপুরের হিলিতে বৃষ্টির অভাবে রোপা আমনের খেতে সেচ দিতে হচ্ছে কৃষকদের। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সেচের খরচ বেড়েছে। আগে থেকেই সার ও কীটনাশকের উচ্চ দামে চাপে থাকা কৃষকেরা এখন ধানের উৎপাদন খরচ তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন।
দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের হিলির বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন রোপা আমনের সবুজ সমারোহ। কয়েক দিনের মধ্যেই ধান পাকতে শুরু করবে। তবে কিছুদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় অতিরিক্ত খরায় উপজেলার বোয়ালদাড় ও জালালপুরসহ কয়েকটি মাঠে ধানগাছ নষ্ট হতে শুরু করেছে। ফসল রক্ষায় কৃষকেরা ডিজেল ও পেট্রলচালিত শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে সেচ দিচ্ছেন।
বোয়ালদাড় গ্রামের কৃষক শেরেগুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি নেই। মাটি ফেটে যাচ্ছে। ফলে ধানখেত নিয়ে কৃষকেরা বিপাকে পড়েছেন। তিনি জানান, ডিজেল বা পেট্রলচালিত ইঞ্জিন দিয়ে সেচ দিতে হচ্ছে, কিন্তু জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় খুব কষ্ট হচ্ছে। সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় এমনিতেই চাষের খরচ বেশি ছিল, তেলের দামে তা আরও বেড়েছে। তাঁর আশঙ্কা, এবার চাষ করে লাভবান হওয়া যাবে না। সরকার তেলের দাম কিছুটা কমালে কৃষকের অনেক উপকার হবে বলে তিনি মনে করেন।
জালালপুর গ্রামের কৃষক সিদ্দিক হোসেন জানান, বৃষ্টি না হওয়ায় সেচ দিয়ে ধানখেত টিকিয়ে রাখতে হচ্ছে। এতে খরচ এমনিতেই বেড়েছে, তার ওপর তেলের উচ্চ দামে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। তাঁর হিসাবে, বিঘাপ্রতি আগে খরচ হতো ১৫ থেকে ১৬ হাজার টাকা, এখন তা বেড়ে ২০ হাজার টাকায় ঠেকেছে। এবার ধান চাষে লাভ থাকবে না বলে তিনি মনে করেন।
ছাতনি গ্রামের কৃষক নাসির হোসেন বলেন, হঠাৎ তেলের দাম বাড়ায় তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আগে প্রতি লিটার পেট্রল কিনতেন ১৪০ টাকায়, এখন কিনতে হচ্ছে ১৬০ টাকায়। বাড়তি খরচ দিয়ে কীভাবে আবাদ করবেন এবং খরচ তুলবেন, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৮ হাজার ১১৮ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলেই আছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা করছেন, এবার রোপা আমনের ফলন ভালো হবে।

