নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের নতুন উপায় খুঁজে পেতে একটি উদ্ভাবনী ধারণা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ। ‘স্ফুরণ: টেকসই জ্বালানি উদ্ভাবনের সন্ধানে’ শীর্ষক এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের পেশাজীবীরা। আগ্রহীদের আগামী ২৫ অক্টোবরের মধ্যে নিজেদের ধারণা জমা দিতে হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বিদ্যুৎ বিভাগ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) সহযোগিতায় এই আয়োজন করেছে। জার্মান উন্নয়ন সহযোগিতা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষে কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে জিআইজেড।
প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য সরকারের নির্ধারিত জ্বালানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক ধারণা সংগ্রহ। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ১৫ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্য রয়েছে। এই দুই লক্ষ্য পূরণে বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় দুটি গ্রুপ রাখা হয়েছে। ‘এ’ গ্রুপে দেশের যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো বিভাগের দুজন শিক্ষার্থী মিলে একটি দল গঠন করে অংশ নিতে পারবেন। ‘বি’ গ্রুপে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পেশাজীবীরা এককভাবে অংশ নেবেন। অর্থাৎ বিষয়ভিত্তিক সীমাবদ্ধতা না থাকায় প্রকৌশলের বাইরের বিভাগের শিক্ষার্থীরাও নিজেদের চিন্তা তুলে ধরার সুযোগ পাবেন।
ধারণা জমা দেওয়ার জন্য দুটি বিষয়ভিত্তিক ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি। এই ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ, স্মার্ট সৌর সেচ, অফ-গ্রিড ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ গ্রিডের আধুনিকায়ন, জ্বালানি সংরক্ষণ ও বায়ুবিদ্যুৎ নিয়ে প্রস্তাব দেওয়া যাবে। এ ছাড়া দেশীয়ভাবে সৌর প্যানেল ও ইনভার্টার উৎপাদন, কৃষিজমির সাশ্রয়ী ব্যবহারে এগ্রি-পিভি এবং ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ নিয়েও ধারণা জমা দেওয়ার সুযোগ আছে।
দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি জ্বালানি সাশ্রয় ও দক্ষতা। এর আওতায় জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি, পরিচ্ছন্ন রান্নার ব্যবস্থা, জ্বালানি দক্ষতা পর্যবেক্ষণের ডিজিটাল সরঞ্জাম, বৈদ্যুতিক যান ও চার্জিং ব্যবস্থা এবং ভবনের জ্বালানি দক্ষতা নিয়ে প্রস্তাব দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী শীতলীকরণ, চাহিদা ব্যবস্থাপনা, পুরোনো স্থাপনা ও ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং আচরণগত পরিবর্তন ও নীতিগত প্রস্তাবনাও গ্রহণ করা হবে।
অংশগ্রহণের নিয়মও নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে ধারণার ব্যাখ্যা দিয়ে সর্বোচ্চ এক হাজার শব্দের একটি কনসেপ্ট নোট জমা দিতে হবে। এর সঙ্গে ধারণাটির বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরে তিন মিনিটের একটি ভিডিও দিতে হবে। নিবন্ধন ও ধারণা জমা দেওয়া যাবে অনলাইনে, স্রেডার নির্ধারিত প্রতিযোগিতা-ওয়েবসাইট seideacontest2026.sreda.gov.bd-এর মাধ্যমে।
স্রেডার চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং লক্ষ্য অর্জনে নতুন ও বাস্তবসম্মত ধারণা পেতেই এই প্রতিযোগিতা। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান তরুণ প্রজন্ম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্ভাবনী ধারণা তৈরি করছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করছে। এসব গবেষণালব্ধ ধারণা কাজে লাগিয়ে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করাই উদ্যোগটির অন্যতম উদ্দেশ্য। তিনি আরও বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে তরুণদের চিন্তা, গবেষণা ও সম্ভাবনা সামনে আনতে চায় স্রেডা। এসব ধারণা বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানি খাতের উন্নয়ন ও জ্বালানি নিরাপত্তার পথ আরও সুগম হবে বলে তিনি আশা করেন।
বাংলাদেশের জ্বালানি খাত দীর্ঘদিন ধরে আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় নবায়নযোগ্য উৎস বাড়ানো ও অপচয় কমানো নীতিনির্ধারকদের কাছে অগ্রাধিকারের বিষয়। তবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শুধু বড় প্রকল্প যথেষ্ট নয়। স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর, কম খরচের ও সহজে প্রয়োগযোগ্য সমাধানও দরকার। সেদিক থেকে শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের কাছ থেকে সরাসরি ধারণা নেওয়ার এই উদ্যোগ নীতিনির্ধারণে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করতে পারে।
এই প্রতিযোগিতার সাফল্য নির্ভর করবে কত ভালো ধারণা জমা পড়ে এবং সেগুলোর মধ্যে কতটি বাস্তবে প্রয়োগের পথে এগোয়, তার ওপর। বিজ্ঞপ্তিতে পুরস্কার বা নির্বাচিত ধারণার পরবর্তী ধাপ নিয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে আগ্রহীদের জন্য হাতে সময় আছে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

