অটোরিকশায় ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চেসি ত্রিপুরার মস্তিষ্ক কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। চিকিৎসকেরা তাঁকে ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’ বলে জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম এইচ এম খুরশীদ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হলেও বর্তমানে তিনি লাইফ সাপোর্টে আছেন। বাবা-মায়ের ইচ্ছায় এখনো তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজশাহীর বাঘমারা থেকে ক্যাম্পাসে আসার পথে অটোরিকশার সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় আহত হন চেসি। তিনি মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনায় তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়। দ্রুত উদ্ধার করে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠায়।
চেসির সহপাঠী রবিউল ইসলাম জানান, মাথায় এতটাই গুরুতর আঘাত লেগেছে যে মস্তিষ্ক ফুলে গিয়ে ভেতরের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। ফলে মস্তিষ্কে রক্ত ও অক্সিজেনের স্বাভাবিক সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ভেতরে রক্তক্ষরণ ও রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনাও ঘটেছে। তাঁর মস্তিষ্ক এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং এই অবস্থা থেকে ফেরার সম্ভাবনা নেই বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। বর্তমানে ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে ফুসফুসে শ্বাস-প্রশ্বাস চালানো হচ্ছে, যে কারণে হৃৎপিণ্ড ও শরীর সচল আছে। এমন অবস্থায় রোগীকে পাঁচ-ছয় দিন বা তারও বেশি সময় লাইফ সাপোর্টে রাখা হলেও মস্তিষ্কের কার্যক্রম ফিরে আসে না বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
অধ্যাপক খুরশীদ আলম বলেন, চেসি ত্রিপুরা ‘ক্লিনিক্যালি ডেড’, তাঁর মস্তিষ্ক আর কাজ করছে না এবং চিকিৎসকেরাও আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, অলৌকিক কিছু না ঘটলে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব। গত দুই দিন ধরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনি হাসপাতালে অবস্থান করছেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
ঘটনাটি আবারও সড়কের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র সামনে এনেছে। একজন তরুণ শিক্ষার্থীর জীবনের এমন পরিণতি পরিবার, সহপাঠী ও পুরো বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের জন্য গভীর বেদনার। দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত এবং ক্যাম্পাস-সংলগ্ন সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

