সরকারি কর্মচারীদের বেতন গ্রেড ও বিভিন্ন ভাতা নির্ধারণ, পরিবর্ধন ও পরিমার্জনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে গঠিত এ কমিটিতে আরও চারজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী সদস্য হিসেবে আছেন। গত ১ নভেম্বর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী। এ ছাড়া জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীও কমিটির সদস্য। অর্থাৎ বেতন-কাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভার সদস্যদের হাতে।
কমিটির কাজের পরিধিও বেশ বিস্তৃত। বেতন স্কেলের বিভিন্ন অসংগতি নিয়ে যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বেতন গ্রেড উন্নীতকরণ, অবনমন ও সামঞ্জস্য বিধানের বিষয়েও সুপারিশ করবে কমিটি।
ভাতার ক্ষেত্রেও কমিটির ভূমিকা থাকছে। ভবিষ্যতে ঝুঁকিভাতা ও অন্যান্য ভাতা নতুন করে চালু করা, ভাতার হার কমানো বা বাড়ানো এবং এ-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে।
কমিটিকে সহায়তা করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বা সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অর্থ বিভাগের সচিব। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিবরাও সহায়তা দেবেন। প্রয়োজন মনে করলে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে। কমিটির সভা প্রয়োজন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। অর্থ বিভাগ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে সুপারিশ জমা দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমার কথা বলা হয়নি। কমিটির সভা কবে বসবে, তা-ও এখনো জানানো হয়নি। তবে বেতন-ভাতা, গ্রেড উন্নীতকরণ ও ঝুঁকিভাতার মতো বিষয় একসঙ্গে পর্যালোচনার দায়িত্ব থাকায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে কমিটির কাজ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বেতন স্কেলের অসংগতি নিয়ে অভিযোগ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য স্বস্তির কারণ হতে পারে। কমিটি কী সুপারিশ করে এবং সরকার তা কতটা বাস্তবায়ন করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

