ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিরপেক্ষ বলে মনে করেন ৪৮ শতাংশ মানুষ। তবে ১১.৩ শতাংশের মতে, সরকার নিরপেক্ষ আচরণ করছে না। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) এবং তাদের যুব প্ল্যাটফর্ম ইয়ুথ ফর পলিসি (ওয়াইএফপি) পরিচালিত এক প্রাক্–নির্বাচনী জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘কতটা জেনে–বুঝে নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ?’ শীর্ষক জনধারণা জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জরিপটি দেশের আট বিভাগের ৪০টি জেলায় পরিচালিত হয়। চলতি মাসের ৬ ও ৭ তারিখে নেওয়া এই জরিপে অংশ নেন মোট ৯ হাজার ৮৯২ জন।
অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে করা প্রশ্নে ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেন, সরকার নিরপেক্ষ কি না, সে বিষয়ে তাঁরা নিশ্চিত নন। এ ক্ষেত্রে নারী উত্তরদাতাদের মধ্যে অনিশ্চয়তার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। এ ছাড়া ৭ শতাংশ উত্তরদাতা এ প্রশ্নে কোনো মতামত দিতে রাজি হননি।
জরিপে ভোটের দিনের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। ফলাফলে দেখা যায়, উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও ৮৬ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, তাঁরা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন। একই সঙ্গে ৮২ দশমিক ৫ শতাংশের ধারণা, তাঁদের এলাকায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুরাও ভয়ভীতি ছাড়া ভোট দিতে সক্ষম হবেন।
তবে সামগ্রিকভাবে ভোটের দিনের পরিবেশ নিয়ে দুশ্চিন্তার চিত্রও স্পষ্ট। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, নির্বাচনের দিন কোনো ধরনের সমস্যা বা নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হলে তা মানুষকে ভোট দেওয়া থেকে বিরত রাখতে পারে।
জুলাই সনদ ও গণভোট সম্পর্কিত প্রশ্নেও জনসচেতনতার ঘাটতির চিত্র উঠে এসেছে। জাতীয়ভাবে মাত্র ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাঁরা জুলাই সনদের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানেন। বয়সভেদে এই জানাশোনায় স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এ হার ২৩ দশমিক ২ শতাংশ হলেও ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশে। গ্রামাঞ্চলে এ হার ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং নগর এলাকায় ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’—কোনটি জিতলে কী ফল হবে, সে বিষয়েও অনেকের মধ্যে স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে। জাতীয়ভাবে ২৯ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা জানিয়েছেন, ‘হ্যাঁ’ জিতলে কী হবে, তা তাঁরা জানেন না।
নির্দিষ্ট সংস্কার বিষয়েও উত্তরদাতাদের ধারণা দুর্বল বলে জরিপে উঠে এসেছে। জুলাই সনদে মৌলিক অধিকার বিষয়ে কী ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে, তা জানেন ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা। বিপরীতে ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। বয়সে বেশি এবং কম শিক্ষিত উত্তরদাতাদের মধ্যে এই অজ্ঞতার হার আরও বেশি।
জরিপে প্রাক্–নির্বাচনী অন্তর্ভুক্তির সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে ব্যালটের ভাষা পড়া ও বোঝার সক্ষমতা। যদিও ৭২ দশমিক ৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তাঁরা গণভোটের ব্যালটে ব্যবহৃত ভাষা সহজে পড়তে ও বুঝতে পারেন। তবে ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এ হার কমে ৫৭ শতাংশে নেমে আসে। যাঁদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, তাঁদের মধ্যে তা আরও কমে দাঁড়ায় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশে।
অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন আইআইডির নির্বাহী প্রধান সাঈদ আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইয়ুথ ফর পলিসির প্রধান সানজিদা রহমান এবং আইআইডির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম পরিচালক মারিয়াম তাসনিমসহ অন্যরা।

