আগামী বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নির্বাচনী ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হিসাব না দিলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
সোমবার ৯ ফেব্রুয়ারি এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করে নির্বাচন কমিশন। এতে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৪৪গ-এর দফা (১) অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রার্থীর নাম গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী এজেন্টকে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফরম-২২-এ অ্যাফিডেভিটসহ ব্যয়ের রিটার্ন দাখিল করতে হবে। কোনো প্রার্থী নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ না করলে তিনি নিজেই এজেন্ট হিসেবে গণ্য হবেন এবং তাকেই হিসাব জমা দিতে হবে।
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ২০০৮-এর ৩১ বিধি অনুযায়ী রিটার্নের সঙ্গে নির্ধারিত ফরমে হলফনামা যুক্ত করতে হবে। প্রার্থী নিজেই এজেন্ট হলে ফরম-২২ক, এজেন্ট নিয়োগ করা হলে প্রার্থীর হলফনামা ফরম-২২খ এবং নির্বাচনী এজেন্টের জন্য ফরম-২২গ প্রযোজ্য। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া নথির অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠাতে হবে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৪৪ঘ এর (১) দফা অনুযায়ী নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য তহবিলের উৎস, রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তা এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করবেন। নির্বাচন কমিশন পরিপত্রের পূর্ণাঙ্গ কপি পিডিএফ আকারে প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি পরিপত্র-১৮ তেও বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বিজয়ী বা পরাজিত—সব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকেই ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হবে।গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ১৯(১) অনুযায়ী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। এমনকি কোনো ব্যয় না হলেও তা নির্ধারিত ফরমে উল্লেখ করে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক।
আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। অনুচ্ছেদ ৪৪গ অনুযায়ী নির্ধারিত রিটার্ন যথাযথভাবে দাখিল না করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। অনুচ্ছেদ ৭৪ অনুসারে এ অপরাধে ন্যূনতম দুই বছর এবং সর্বোচ্চ সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড হতে পারে।
কোনো প্রার্থী বিধান অমান্য করলে রিটার্নিং কর্মকর্তা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।নির্বাচনের বিরুদ্ধে মামলা না থাকলে অপরাধ সংঘটনের দিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে মামলা করতে হবে। আর হাইকোর্ট বিভাগে মামলা বিচারাধীন থাকলে এবং আদালত আদেশ দিলে আদেশের তিন মাসের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না।

