বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করতে ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। এই অর্থের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা জোরদার এবং দারিদ্র্যঝুঁকি কমাতে একগুচ্ছ সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।
এই অর্থায়ন ‘সেকেন্ড স্ট্রেনদেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় ধাপের অংশ। কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, এর আওতা বাড়ানো এবং সেবাগুলোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা। বিশেষ করে দরিদ্র, প্রান্তিক ও ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোকে আধুনিক ও সহনশীল করে তুলতে সহায়তা করবে। এতে নারীদের জন্য সহায়তা সম্প্রসারণ, নতুন অবদানভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু এবং দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পথ সুগম হবে।
কর্মসূচির আওতায় বিধবা ভাতা কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে অন্তত আড়াই লাখ নতুন উপকারভোগী নারীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অবদানভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা স্কিম চালু করা হবে, যা ভবিষ্যতে সরকারের আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কর্মভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হবে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অভিযোজন সক্ষমতা বাড়বে। নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সেবায় প্রবেশাধিকারও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ধরনের সংস্কারভিত্তিক ঋণ শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখে। এতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা উন্নয়ন এবং নারী অংশগ্রহণ বাড়ার মাধ্যমে সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক একটি বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সংস্থা, যার সদস্য সংখ্যা ৬৯। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য।

